নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত কয়লা মজুত থাকলেও একের পর এক ইউনিট বিকল হয়ে উৎপাদন বন্ধ থাকায় উত্তরের ৮ জেলায় দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটই এখন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।
কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, কয়লার সঙ্গে পাথর চলে আসায় বয়লার পাইপ ফেটে যায়, যার ফলে ইউনিটটি বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও জানান, মেরামত কাজ চলছে এবং পুরোপুরি চালু হতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে।
এর আগেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাকি দুইটি ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। ১২৫ মেগাওয়াটের ২ নম্বর ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে এবং ২৭৫ মেগাওয়াটের ৩ নম্বর ইউনিট ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে বারবার ত্রুটির কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কেন্দ্রটি।
২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হয়। মোট ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও নানা যান্ত্রিক সমস্যায় কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ছে এবং উত্তরাঞ্চলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে দিনাজপুরসহ আশপাশের ৮ জেলায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে।
এদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। খনির উৎপাদিত কয়লার প্রধান ব্যবহারকারী এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ইয়ার্ডে কয়লার মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টনে, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৭০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে, কিন্তু ব্যবহার না থাকায় দ্রুত মজুত বেড়ে যাচ্ছে এবং জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ, অন্যদিকে কয়লা মজুত নিয়ে সংকট—দুই দিকেই চাপে পড়েছে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ ও কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ।