নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : শনিবার ১৭ই জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম হাসিব (২৩) কে গতকাল ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ভোর আনুমানিক সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ।
ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রে জানা যায়, আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে রাস্তায় তাকে আটক করা হয়। এ সময় পুলিশ তাকে আটকের কারণ সম্পর্কে কোনো ধরনের পূর্ব জিজ্ঞাসাবাদ বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। পরে পরিবার পক্ষ থেকে একাধিকবার পুলিশের কাছে আটকের কারণ জানতে চাওয়া হলেও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
পরবর্তীতে পুলিশ মৌখিকভাবে জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছে।
আরাফাতের সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাজারীবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় করা একটি মামলার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। তবে উক্ত মামলার বিষয়ে এর আগে আরাফাত কিংবা তার পরিবারের কেউই কোনো ধরনের নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক অবহিতকরণ পাননি বলে দাবি করা হয়েছে।
আরাফাত ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অষ্টম সেমিস্টারের একজন নিয়মিত ছাত্র। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরাফাত ইসলাম হাসিব আওয়ামী লীগকে সমর্থন করলেও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে মাঝে মাঝে সমালোচনামূলক মতামত প্রকাশ করতেন।
আরাফাতের বন্ধু মহলের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুপ্ত সংগঠন ব্যক্তিগত আক্রোশ ও শত্রুতার জেরে তাকে উক্ত মামলায় জড়িয়েছে। তাদের মতে, এটি একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা।
পরিবার ও সহপাঠীদের দাবি, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের কারণে এভাবে আটক করা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আরাফাতের সহপাঠী ও বন্ধু-বান্ধবরা দ্রুত তার মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।