নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার ২৩শে এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসুর এক নেতাকে ঘিরে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে ঘটনাটি এখন ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে পথরোধ করে হেনস্তা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মুসাদ্দিক আলী।
সংবাদ সম্মেলনে মুসাদ্দিক আলী জানান, দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি কলা ভবনের পেছনের ফটক দিয়ে ক্লাসে যাওয়ার সময় আলাউদ্দিন ও তার সহযোগীরা তার পথরোধ করেন।
তার ভাষায়,
“আমি তাকে চিনতে না পেরে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর আমাকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আমার দাঁত ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন এবং মারতে উদ্যত হন।”
তিনি আরও দাবি করেন, সহযোগীরা আলাউদ্দিনকে সরিয়ে নিলেও তিনি বারবার ফিরে এসে হামলার চেষ্টা করেন এবং চলে যাওয়ার সময় গুরুতর হুমকি দেন।
মুসাদ্দিক এই ঘটনাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, মুসাদ্দিক তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় ভিত্তিহীন প্রচারণা চালিয়েছেন।
তার দাবি, “আমি শুধু সেই বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা চেয়েছি। আমি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র। আমার নামে ছড়ানো মিথ্যা তথ্যের জবাব চাওয়া অন্যায় নয়। প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
মো. আলাউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০০৬–০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রাজনৈতিক মামলার কারণে তার শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। পরে ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষে পুনরায় ভর্তি হন এবং বর্তমানে ২০২৩–২৪ সেশনে দ্বিতীয়বারের মতো ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনাটি ঘিরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। একদিকে হেনস্তা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, অন্যদিকে সেই অভিযোগকে ‘মিথ্যা প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত। ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।