নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : সোমবার ৩০শে মার্চ ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনে চলমান জ্বালানি সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশজুড়ে শত শত পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ৩৬৫টি ফুয়েল স্টেশন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নই এই সংকটের প্রধান কারণ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিবহন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার খবরে বিশ্ববাজারেও তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছেছে, যা ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। একই সঙ্গে তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে গ্যাসের দামও বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯৮ ডলার।
এদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং পাল্টা প্রতিশোধের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী গ্রেগ নিউম্যান বলেছেন, পরিস্থিতির প্রকৃত প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তার মতে, ইউরোপে এই সংকটের প্রভাব পুরোপুরি উপলব্ধি করতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ধীরে ধীরে ১২০ ডলার বা তারও বেশি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।