নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : রবিবার ২৯শে মার্চ ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, গত ৮ বছর ধরে দেশে এই অতি সংক্রামক রোগের টিকা দেওয়া হয়নি।
রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওষুধ শিল্প মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, হামের রোগী আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, “আট বছর আগে সর্বশেষ মিজেলসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর কোনো সরকারই এই টিকা দেয়নি।”
বর্তমান সরকার নতুন করে হামের টিকা কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে ক্রয়সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্রুত টিকা সংগ্রহ ও প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। এছাড়া বিশেষ ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হয়ে থাকে।
এদিকে চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। পরে রাজধানীর বিভিন্ন বস্তি এলাকাতেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি, যার বড় অংশই হাম আক্রান্ত শিশু।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের রোগীদের চিকিৎসায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সংকটের কারণে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর পর সরকার পাঁচটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে চারটি দ্রুত রাজশাহীতে পাঠানো হবে।
এছাড়া ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরই আরও ১২টির বেশি ভেন্টিলেটর সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এসব সরঞ্জাম হামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।