নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : শনিবার ২৮শে মার্চ ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
অস্বাভাবিক উচ্চসংখ্যক মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে করোনাভাইরাসের নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট। ‘বিএ.৩.২’ নামে পরিচিত এই ধরনটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক অঙ্গরাজ্যসহ অন্তত আরও ২২টি দেশে শনাক্ত হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষকরা অনানুষ্ঠানিকভাবে এই ভ্যারিয়েন্টটির নাম দিয়েছেন ‘সিকাডা’। মাটির নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার পর বেরিয়ে আসা এক ধরনের পতঙ্গের নাম অনুসারে এই নাম রাখা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, নজরদারি ব্যবস্থার বাইরে থেকে ভাইরাসটি দীর্ঘ সময় নীরবে বিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিকাডা বা বিএ.৩.২ ভ্যারিয়েন্টে প্রায় ৭৫টি মিউটেশন রয়েছে, যা আগের অনেক ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় বেশি। এর বড় একটি অংশ ঘটেছে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনে, যার মাধ্যমে এটি মানবদেহের কোষে প্রবেশ করে।
ল্যাব পরীক্ষায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভ্যারিয়েন্টের ‘ইমিউন এড়ানোর’ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। অর্থাৎ, বিদ্যমান টিকা বা আগের সংক্রমণ থেকে তৈরি অ্যান্টিবডিকে এটি কিছুটা ফাঁকি দিতে পারে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তেমনভাবে নজরে না এলেও ২০২৫ ও ২০২৬ সালের শুরু থেকে বিভিন্ন দেশে এর উপস্থিতি বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের জুনে নেদারল্যান্ডস থেকে আসা এক ভ্রমণকারীর মাধ্যমে প্রথম এটি শনাক্ত হয়। এটি ওমিক্রন পরিবারের উপশাখা বিএ.৩ থেকে উদ্ভূত।
এটি কি বড় কোনো হুমকি?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদিও ভ্যারিয়েন্টটিতে অনেক পরিবর্তন রয়েছে, তবুও এর সংক্রমণের হার এখনো তুলনামূলকভাবে কম।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে বিএ.৩.২ আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় বেশি গুরুতর অসুস্থতা সৃষ্টি করছে। তবে এর জিনগত পরিবর্তন টিকার কার্যকারিতায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন গবেষকরা।