নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার ২৬শে মার্চ ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর ৪৮ ঘণ্টার তীব্র বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কোনো সময় শান্তি আলোচনার ঘোষণা দিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই তড়িঘড়ি করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আগে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে সর্বোচ্চ ক্ষতি করাই এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার খসড়া হাতে পাওয়ার পরই নেতানিয়াহুর সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ওই পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের কিছু অংশ সত্য হলেও পুরো পরিকল্পনাটি নির্ভুল নয় এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সামরিক সদরদপ্তরে জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের কাছ থেকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে ব্রিফিং পাওয়ার পরই হামলা জোরদারের নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেকটাই ওয়াশিংটনের হাতে। ফলে এই সংঘাতে ইসরায়েলের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলের ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে—কেউ আরও অন্তত এক সপ্তাহ হামলা চালানোর পক্ষে, আবার কেউ দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার কথা বলছেন। কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য এসেছে, তবে এখন আন্তর্জাতিক চাপ, অর্থনৈতিক ব্যয় এবং জনগণের ওপর মানসিক-শারীরিক চাপ বাড়ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ১,৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি