;

তেহরানে কল থেকে বেরোচ্ছে না পানি, ইরানজুড়ে তীব্র সংকট

তেহরানে কল থেকে বেরোচ্ছে না পানি, ইরানজুড়ে তীব্র সংকট

ছবি সংগৃহীত

ইরান গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পানি সংকটে পড়েছে। দেশজুড়ে চলমান খরা অব্যাহত থাকলে ১ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার রাজধানী তেহরান শিগগিরই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।

রাষ্ট্রপতি মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বৃষ্টি না হলে সরকারকে তেহরানে পানি রেশনিং শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, “রেশনিং করেও যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে আমাদের একেবারেই পানি থাকবে না। তখন নাগরিকদের তেহরান খালি করতে হবে।”

ইরানের জাতীয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন কোম্পানি আনুষ্ঠানিক রেশনিংয়ের খবর অস্বীকার করলেও জানিয়েছে, রাতে পানির চাপ কমানো হচ্ছে, যা অনেক এলাকায় শূন্যে নেমে আসতে পারে। তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের ৭০ শতাংশ বাসিন্দা দৈনিক নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পানি ব্যবহার করেন।

পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর বাইরে থাকা পাঁচটি জলাধারে পানির স্তর গত বছরের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কমে গেছে। আমির কাবির বাঁধে এখন মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশ পানি রয়েছে। চলমান হারে পানি ব্যবহার অব্যাহত থাকলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

সংকট শুধু তেহরানেই নয়—দেশজুড়ে ১৯টি বড় বাঁধ প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে পানির মজুত ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত বাঁধ নির্মাণ, অবৈধ কূপ খনন ও অদক্ষ কৃষি পদ্ধতিই সংকটের মূল কারণ। সরকার অবশ্য এই অবস্থার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও পূর্ববর্তী প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করছে।

গত গ্রীষ্মে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অতিক্রম করায় ইরানে জরুরি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পানি ও জ্বালানির চাহিদা নিয়ন্ত্রণে সরকারি দপ্তর ও ব্যাংক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।