নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : শুক্রবার ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
গ্রিসে সব অনিবন্ধিত ও অনুমোদনহীন মসজিদ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। ইতোমধ্যে অনুমোদনহীন প্রায় ৬০টি মসজিদ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশিদের পরিচালিত ২০ থেকে ২৫টি মসজিদ রয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলমানদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে।
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়নবিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে জানান, নতুন ‘ল ৫২২৪/২০২৫’-এর ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনুমোদনহীন উপাসনালয়ের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে এথেন্স শহরের অ্যাজিওস নিকোলাওস এলাকায় একটি বেজমেন্টে পরিচালিত মসজিদ সিলগালা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অভিযুক্ত বাংলাদেশি ইমামের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সরাসরি ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই স্থানটিকে অনুমোদনহীন উপাসনালয় হিসেবে বন্ধ করে দেয়। পরে আদালত অনুমতি ছাড়া নামাজ পরিচালনার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
গ্রিস সরকারের দাবি, এথেন্সের ভোটানিকস এলাকায় অবস্থিত সরকারি মসজিদটিই মুসলিমদের জন্য একমাত্র অনুমোদিত মসজিদ। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, এই মসজিদটি তাদের বসবাসের এলাকা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বা জুমার নামাজ আদায় করা বেশ কঠিন। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফ্ল্যাট বা বেজমেন্ট ভাড়া নিয়ে অস্থায়ীভাবে মসজিদ পরিচালনা করে আসছিলেন।
বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিস-এর সাধারণ সম্পাদক এইচ এম জাহিদ ইসলাম জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইমাম ও খতিবদের সঙ্গে জরুরি সভা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে রমজান মাসে ইবাদত নির্বিঘ্ন রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি আইনি সমাধান নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে আমরা অন্যান্য মুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে গ্রিস সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসবো।”
প্রবাসীদের আশঙ্কা, রমজান মাসে মসজিদগুলো বন্ধ হয়ে গেলে তারাবি ও ঈদের নামাজ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা আশা করছেন, গ্রিস সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত রমজান মাসের জন্য সাময়িক শিথিলতা দেবে।
এদিকে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি গ্রিস সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
জানা গেছে, এথেন্সের অ্যাজিওস নিকোলাওস এলাকায় ভাড়া নেওয়া একটি বেজমেন্টে বাংলাদেশি ইমাম নিজেই ইমামতি করে মসজিদ পরিচালনা করতেন। সেখানে স্থানীয় মুসলিম অভিবাসীরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন এবং বিশেষ করে জুমার দিনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লির সমাগম হতো।