নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : রবিবার ৫ই এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীজুড়ে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না প্রয়োজনীয় তেল, ফলে আয়-রোজগার নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) আসাদগেট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে আল আমিন নামে এক রাইডশেয়ার চালক জানান, সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর আড়াইটায় এসে তিনি মাত্র ৫০০ টাকার তেল পেয়েছেন। ঈদের আগে যেখানে বেশি তেল পাওয়া যেত, এখন সেখানে কঠোর সীমাবদ্ধতা। এতে কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে, আয় কমছে—ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তিনি।
একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন অন্যান্য মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকরাও। তাদের অভিযোগ, দিন যত যাচ্ছে তেলের জন্য অপেক্ষার সময় ততই বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকা এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। তবে থানা থেকে বিশেষ স্লিপ থাকলে কেউ কেউ বেশি তেল পাচ্ছেন।
একজন চালক জানান, জেনারেটর চালু রাখার জন্য থানার স্লিপে ৫০ লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অন্যদিকে, অনেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সীমিত পরিমাণ তেল পেয়ে আবার লাইনে দাঁড়ানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক পাম্প অপারেটর জানান, ঈদের আগে তুলনামূলক বেশি তেল দেওয়া সম্ভব হলেও এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকও সরবরাহ মিলছে না, ফলে অনেক সময় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
রাজধানীর তেজগাঁও, নীলক্ষেত, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। তেলের অভাবে অনেক ফিলিং স্টেশনই বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে। তবুও চালকরা অনিশ্চয়তার মধ্যেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক। তবে মানুষের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে বেশি তেল কেনার প্রবণতার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটছে।
সব মিলিয়ে, মাঠের বাস্তবতা ও সরকারি বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ চালকরা, যাদের জীবিকা নির্ভর করছে প্রতিদিনের আয়ের ওপর।