নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার ২৫শে নভেম্বর ২০২৫, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার এমন সব দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে দশকের পর দশক প্রভাবিত করবে।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এমন সরকারের হাতে থাকা উচিত নয়, যার কাছে জনগণের ম্যান্ডেট নেই।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) উত্তরণ প্রক্রিয়া কিংবা বন্দরগুলোর সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকারকেই নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “এটা কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ নয়—এটি প্রতিষ্ঠান ও নীতিকে রক্ষা করার বিষয়।”
তিনি আরও লেখেন, এলডিসি উত্তরণের সময় সংশোধন করা আন্তর্জাতিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু নয়। অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশ ধাক্কা সামলাতে সময় বাড়িয়েছে, এবং জাতিসংঘের নিয়মেও সেই সুযোগ রয়েছে। তাই দেশের অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে সময় চাওয়া একটি দায়িত্বশীল অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ হওয়া উচিত ছিল।
তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের উত্তরণ সময় রেখে স্থগিতের বিকল্পই বন্ধ করে দিয়েছে, “যা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও অননুমোদিত (ম্যান্ডেটহীন) সিদ্ধান্ত”। তিনি মনে করেন, এভাবে বিকল্প বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ব্যাংকখাতে চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ঋণঝুঁকি বৃদ্ধি ও রপ্তানি মন্থরতা—এসবই প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখনো প্রস্তুত নয়। “অধিকার থাকা আর প্রস্তুত থাকা এক নয়,”—লিখেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, এগুলো কৌশলগত অঙ্গীকার, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত—এ ধরনের সিদ্ধান্ত অনির্বাচিত সরকারের নেওয়া উচিত নয়।
তিনি মনে করেন, যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগকে পাশ কাটিয়ে ‘অনিবার্যতা’ দেখানো হচ্ছে, জনআলোচনা সীমিত করে দেওয়া হচ্ছে।
তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন হবে জনগণের কথা বলার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ও “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মানুষের হাতে থাকা উচিত”—এই সত্য পুনর্ব্যক্ত করার সুযোগ।