;

২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি

২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি

ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ সংগ্রাম, আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পথ পেরিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বড় রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের পথে। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে ২০৯টি আসনে। জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় ১৫১টি আসন, অর্থাৎ মোট আসনের ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সেই হিসাবে বিএনপি প্রায় ৬৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

এই ফলাফলের পর দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন সবার দৃষ্টি সরকার গঠন, শপথ গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার দিকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তারেক রহমানের সক্রিয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ বিএনপির জন্য নতুন শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, তারেক রহমান প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং তৃণমূলভিত্তিক কৌশলের মাধ্যমে দলকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। সময়োপযোগী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ—সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সহায়তা করেছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। এই বিজয় জনগণের ঐক্যের প্রতিফলন।”

তিনি আরও বলেন, এই বিজয় নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনার প্রতীক এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই নতুন সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সর্বশেষ ২০০১ সালে সরকার গঠন করেছিল। পরে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেন। তাঁর মৃত্যুর পর দলটির নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান, এবং প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েই তিনি দলকে বিপুল বিজয় এনে দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা। বিশেষ করে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তান—এই চারটি দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির মনে করেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।”

বড় ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির ওপর জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এখন নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় শুধু একটি দলের নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সূচনা। এখন দেখার বিষয়, এই ঐতিহাসিক ম্যান্ডেটকে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তব উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় রূপ দিতে পারে নতুন সরকার।