নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বুধবার ২৯শে এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন ইতিহাসের সূচনা হলো। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ প্রথমবারের মতো পরমাণু শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করল।
মঙ্গলবার বেলা ৩টার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে (ইউনিট-১) ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্পের ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এবং দেশীয় প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হচ্ছে।
এক দশকের দীর্ঘ প্রস্তুতি, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জটিল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে বাংলাদেশ পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করল।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। আশা করা হচ্ছে, জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টের শুরুতে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই কেন্দ্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর রয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম।
এদিকে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকায় আসেন। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হেলিকপ্টারে রূপপুরে গিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ দেশি-বিদেশি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।