;

রংপুরে তিনটি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি বিএনপির, ডিসি অফিস ঘেরাও

রংপুরে তিনটি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি বিএনপির, ডিসি অফিস ঘেরাও

ছবি সংগৃহীত

কারচুপির অভিযোগ এনে রংপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে রংপুর-৪ (পীরগাছা–কাউনিয়া), রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন) এবং রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের প্রার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, তিনটি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে পুনরায় ভোট গণনার লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশনের কাছে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং কারচুপির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু এবং রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

এমদাদুল হক ভরসা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন বিকাল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পক্ষ থেকে ‘মব’ তৈরি করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোট বাতিল হওয়ায় ফলাফল নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে এবং পুনর্গণনার মাধ্যমে প্রকৃত ফল প্রকাশের দাবি জানান। এর আগে ভোটের পরদিন কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ এলাকায় তার সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু বলেন, তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন শুরু করেছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। একই ধরনের বক্তব্য দেন রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমদাদুল হক ভরসাকে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজা মিয়া জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ডিসি অফিসে এসে বিক্ষোভ করে ফিরে গেছেন এবং কোনো আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি।

পাল্টা অভিযোগ বিজয়ী প্রার্থীর

অন্যদিকে রংপুর-৪ আসনের বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা হারাগাছ, পীরগাছা ও কাউনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘটনাকে নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ভাড়া করা লোকজন সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতির দায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিন আসনের ফলাফল এক নজরে

রংপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট।

রংপুর-৪ আসনে এনসিপির আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।

রংপুর-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমীন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।