;

সরকারি হাসপাতালে নেই র‍্যাবিস টিকা, বাইরে চড়া দাম

সরকারি হাসপাতালে নেই র‍্যাবিস টিকা, বাইরে চড়া দাম

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে জলাতঙ্ক (র‍্যাবিস) প্রতিরোধী টিকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আহত রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে টিকা কিনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রতিদিনই শত শত রোগী র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে আসছেন। তবে পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধের প্রধান দুই উপাদান—এআরভি (ARV) এবং আরআইজি (RIG) ভ্যাকসিন—দুটোরই তীব্র সংকট চলছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রাণীর কামড়ে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে এসে টিকা না পেয়ে তারা বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো টিকা না পাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় চার লাখ মানুষ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করেন। অথচ গত দেড় বছর ধরে সরকারিভাবে এআরভি টিকার সরবরাহ প্রায় বন্ধ রয়েছে। একইসঙ্গে গত তিন মাস ধরে আরআইজি টিকাও পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে বাজারে একটি আরআইজি টিকার দাম প্রায় ১ হাজার টাকা এবং এআরভি টিকার দাম ৫০০ টাকারও বেশি।

বগুড়া র‍্যাবিস ভ্যাকসিন ইউনিটের ইনচার্জ রোখশানা জানান, প্রায় চার মাস ধরে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। কিছু ক্ষেত্রে একটি ভায়াল থেকে একাধিক রোগীকে একসঙ্গে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তবে সেটিও নিয়মিত সম্ভব হচ্ছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীদের নিজ খরচে টিকা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক এমন একটি রোগ যার কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই; একমাত্র প্রতিরোধই বাঁচার উপায়। সঠিক সময়ে টিকা না নিলে এই রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি শতভাগ। তাই আক্রান্ত প্রাণীর ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত টিকা নেওয়া জরুরি।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মো. রাশেদুল ইসলাম রনি বলেন, যাদের বাসায় পোষা প্রাণী রয়েছে, সেগুলোকে আগেই টিকা দেওয়া থাকলে কামড়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম থাকে এবং অনেক সময় অতিরিক্ত টিকার প্রয়োজন হয় না।

সরকারি হিসেবে, ২০২৪ সালে দেশে জলাতঙ্কে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৪০ জন। এই পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে, টিকার সংকট অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।