নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বুধবার ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এদিন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গণভোট। দেশের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো এক দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘটনা।
তবে একই দিনে দুটি ভোট আয়োজন করায় ভোটারদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জানতে চাওয়া হচ্ছে, ভোটের দিন দুটি ব্যালটেই কি ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক, নাকি কেউ শুধু একটি ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্পষ্ট করেছে, ভোটারকে দুটি ব্যালটই নিতে হবে। চাইলে তিনি একটি ব্যালটের ভোট দিয়ে অন্যটি ফাঁকা রাখতে পারবেন। ফাঁকা ব্যালট গণনার সময় বাতিল ভোট হিসেবে গণ্য হবে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ হবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। একদিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা-কালো, আর গণভোটের ব্যালট হবে গোলাপি। সারা দেশে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
একই ব্যালট বাক্সে দুটি ভোট
গণভোট-সংক্রান্ত এক পরিপত্রে ইসি জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের ক্ষেত্রেও ব্যবহার হবে। ভোটাররা ভোট প্রদান শেষে দুটি ব্যালটই একই বাক্সে ফেলবেন। ভোটশেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালট আলাদা করে গণনা করবেন।
একটি ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মতিয়ুর রহমান জানান, একজন ভোটারকে দুটি ব্যালটই সরবরাহ করা হবে। চাইলে তিনি একটি ব্যালটে ভোট দিয়ে অন্যটি ফাঁকা রাখতে পারেন, কিন্তু শুধুমাত্র একটি ব্যালট নেওয়ার সুযোগ নেই। গণভোটে অংশ নিতে না চাইলেও ভোটারকে অবশ্যই ব্যালট নিতে হবে এবং সেটি ভাঁজ করে বাক্সে ফেলতে হবে। ফাঁকা ব্যালট গণনার সময় বাতিল ভোট হিসেবে গণ্য হবে।
ইসি জানিয়েছে, এই পদ্ধতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নিয়ম অনুসরণ করে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন নির্বাচনে একাধিক পদ থাকলেও ভোটার চাইলে নির্দিষ্ট পদের ব্যালট ফাঁকা রাখতে পারেন।
ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ
ভোটগণনার সময় প্রতিটি কেন্দ্রেই গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট আলাদা ফরমে গণনা ও প্রকাশ করা হবে। সংসদ নির্বাচনের ভোটের ফলও আলাদা ফরমে দেখানো হবে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কেন্দ্রভিত্তিক ফল প্রেরণ করবেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা আসনভিত্তিকভাবে স্বাক্ষর করে ইসিতে পাঠাবেন।
নতুন অভিজ্ঞতা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য
১৯৯১ সালের পর প্রায় ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের তৃতীয় গণভোট। একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আয়োজন করায় এটি নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্যও নতুন অভিজ্ঞতা। তবে নির্বাচন কমিশনের আশা, নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশনা অনুসরণ করলে দুই ভোটই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।