নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : সোমবার ২৪শে নভেম্বর ২০২৫, ০২:১১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশের ভূগর্ভের নিচে ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—এই তিন টেকটোনিক প্লেটের স্থায়ী নড়াচড়ার কারণে দেশের ভৌগোলিক কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই নড়াচড়ার ফলেই ডাউকি, মধুপুর ও সিলেট লাইনমেন্টসহ একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইন তৈরি হয়েছে। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য উৎস হলো মধুপুর ফল্ট।
গবেষকদের তথ্য বলছে, মধুপুর ফল্টে প্রায় ৪০০ বছর ধরে চাপ জমে আছে। একবারে এই চাপ মুক্তি পেলে রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রা পর্যন্ত ভূমিকম্প হতে পারে। রাজধানী ঢাকা এই ফল্ট থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করায় শহরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মাত্র ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ঢাকার ৪০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে।
২০০৭ সালে মধুপুর ফল্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে একটি সিসমোগ্রাফ স্থাপন করা হয়। তবে বর্তমানে সেই যন্ত্রটির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মধুপুর গড় ও আশপাশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদীকে কেন্দ্র করে হওয়া ভূমিকম্পের পর মধুপুর এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টাঙ্গাইলকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করলেও ভূমিকম্পের কোনো পূর্বাভাস বা সতর্কতা দেয়া হয়নি, যা এলাকাবাসীকে অপ্রস্তুত রেখেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, “সচেতনতা ও প্রস্তুতি বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিকল্পিত নির্মাণ ও সঠিক তদারকি থাকলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।”
মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ জানান, “আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে মধুপুর অঞ্চলে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। নতুন যন্ত্রপাতি আনার প্রক্রিয়া চলছে।”
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের এক ভূমিকম্পে মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নের বোকারবাইদ গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছিল। যার ব্যাস ছিল ৫–৬ ইঞ্চি, আর গভীরতা ২৫–২৬ ফুট।