নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার ৭ই এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই আত্মগোপনে চলে যান। সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হন।
তবে শিরীন শারমিন চৌধুরী আর প্রকাশ্যে আসেননি। ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও তিনি যাননি।
আওয়ামী লীগ সরকারের হোমরা চোমরা কয়েকজনসহ কয়েকশ মানুষ ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর প্রাণভয়ে সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অনেকে নিজে থেকে চলে যান।তবে অন্তত দুজন এবং তাদের পরিবার সেনা হেফাজতে রয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে নিশ্চিত করেছিল আইএসপিআর। তাদের মধ্যে একজন শিরীন শারমিন চৌধুরী বলে গুঞ্জন ছিল।
পরে তাকে সেনানিবাস থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথাও শোনা গিয়েছিল। তবে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের অগাস্টেই রংপুরে শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এক স্বর্ণকারিগর গুলিতে নিহতের ঘটনায় ওই মামলা হয়।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিভাবে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন।
ওই বছর নভেম্বরে পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়, শিরীন শারমিন চৌধুরী ‘সাধারণ পাসপোর্টের’ জন্য যে আবেদন করেছেন তার কার্যক্রম মামলার কারণে ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছে। তার কূটনৈতিক পাসপোর্টটি অন্যান্যদের কূটনৈতিক পাসপোর্টের মত আগেই বাতিল করা হয়েছে এবং তাকে নতুন কোনো পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের সময় আবার শিরীন শারমিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এবারও তিনি সামনে আসেননি। নতুন এমপিদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন।