;

এক বছরে সিরিয়ায় ৬ শ’র বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

এক বছরে সিরিয়ায় ৬ শ’র বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ছবি সংগৃহীত

এক বছরে সিরিয়ায় ছয় শতাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন দু’বার করে হামলা হয়েছে দেশটিতে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাশার আল আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার আরও ৪২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে ইসরায়েল।

২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণে পতন হয় আসাদ সরকারের, যা আসাদের পাঁচ দশকের বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটায়। এরপরই শূন্যতার সুযোগে দ্রুত সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে থাকে ইসরায়েল।

সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডি (ACLED) জানিয়েছে, গত এক বছরে ইসরায়েল বিমান, ড্রোন ও আর্টিলারি দিয়ে ৬০০–র বেশি হামলা চালিয়েছে। এসবের প্রায় ৮০ শতাংশই দক্ষিণ সিরিয়ার তিনটি প্রদেশে—কুনেইত্রায় ২৩২ বার, দেরায় ১৬৭ বার এবং দামেস্কে ৭৭ বার হামলা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল মূলত সাবেক সামরিক ঘাঁটি ও সন্দেহভাজন অস্ত্রবাহী কনভয়।

বহু বছর ধরেই সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। আগে তাদের দাবি ছিল—ইরানের সামরিক প্রভাব ঠেকানোই এসব হামলার কারণ। কিন্তু এবার তাদের বক্তব্য, উগ্রপন্থীদের হাতে অস্ত্র যাওয়ার পথ বন্ধ করতেই এসব আক্রমণ। তালিকায় রয়েছে শক্তিশালী বিরোধী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস), যাদের নেতৃত্বেই আসাদ সরকারের পতন ঘটে।

আসাদের পতনের পরপরই ১৯৬৭ সাল থেকে দখল করে রাখা গোলান মালভূমির সীমান্ত অতিক্রম করে সিরিয়ায় প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৯৭৪ সালের জাতিসংঘ-মধ্যস্থ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে সেখানে নতুন সামরিক পোস্টও গড়ে তোলে তারা।

জাতিসংঘসহ অনেক আরব দেশ ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানালেও তেল আবিব তা উপেক্ষা করেছে। বরং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, গোলান মালভূমিতে সেনা মোতায়েন অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে। ইতোমধ্যে তারা আরও ৪২০ বর্গকিলোমিটার জমি দখল করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ার নতুন সরকার শান্ত পরিস্থিতি বজায় রাখতে চাইলেও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা ও ভূমি দখল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।