নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : শনিবার ২৭শে ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ম্যাচ শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গা গরমে ব্যস্ত ছিলেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। কোচিং স্টাফের সদস্যরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ঠিক তখনই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মাহবুব আলি। এরপর আর উঠে দাঁড়ানো হয়নি অভিজ্ঞ এই ক্রিকেট কোচের। মাঠে ও হাসপাতালে সবার সর্বোচ্চ চেষ্টাও ব্যর্থ করে দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞ পেস বোলিং কোচ মাহবুব আলি বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।
বিপিএলের দ্বিতীয় দিনে শনিবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রথম ম্যাচ ছিল। ম্যাচ শুরুর আগেই দলের সঙ্গে মাঠে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে তিনি পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্টরা ছুটে আসেন। মাঠেই তাকে সিপিআর দেওয়া হয় এবং দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দল সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার সময়ও তার শ্বাসপ্রশ্বাস চলছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
দুপুর ২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শোকবার্তায় ঢাকা ক্যাপিটালস জানায়,
“অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ঢাকা ক্যাপিটালস পরিবারের প্রিয় সহকারী কোচ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।”
ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ টবি র্যাডফোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত দলের প্রস্তুতি দেখভাল করছিলেন মাহবুব। পরে তিনি সহকারী কোচ হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
দেশের ক্রিকেটে পেস বোলিং কোচ হিসেবে মাহবুব আলি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও সম্মানিত মুখ। তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশনের সমস্যা সংশোধনসহ দেশের বহু পেসারের সঙ্গে তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। অনেক পেসারের কাছে তিনি ছিলেন একজন ‘মেন্টর’। ২০২০ সালের যুব বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফেও ছিলেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ছিলেন একজন পেস বোলার। জাতীয় দলে খেলার সুযোগ না পেলেও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলার হয়ে এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী ও ধানমন্ডির মতো ক্লাবে খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিং পেশায় যুক্ত হন। ২০০৮ সালে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স কোচ হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম প্রধান পেস বোলিং কোচ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠ, ইনডোর কিংবা নেটে—সবখানেই সব বয়স ও পর্যায়ের পেসারদের সঙ্গে তাকে নিয়মিত কাজ করতে দেখা যেত।
মাঠের মানুষটি শেষ পর্যন্ত বিদায় নিলেন মাঠ থেকেই।