;

২৬ দিনে ১২ খুন চট্টগ্রামে

২৬ দিনে ১২ খুন চট্টগ্রামে

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামে চলতি মাসের শুরু থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৬ দিনে ১২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রকাশ্যে পিটিয়ে, গুলি করে এবং কেটে লাশ ছয় টুকরা করার ঘটনাও রয়েছে। এতে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

খুনের ঘটনার মধ্যে বেশি আলোচিত হয় র‌্যাব কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা। এই ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ ইয়াসিন ধরা পড়েননি। উল্টো আসামি ধরতে গেলে প্রকাশ্যে জনবিস্ফোরণের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ২২ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে তাঁর বক্তব্যে বলতে শোনা যায়, ‘এসব ক্রাইমের ফান্দে পাড়া দিয়া কেউ যদি কোনো ঝামেলা করে, এতে কিন্তু বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে।’

এর আগে ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এই ঘটনায় করা মামলায়  বলা হয়েছে, র‌্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে তাঁদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় র‌্যাবের আটক করা এক আসামিকে। চার র‌্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন,  র‌্যাব কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনা ঘটলেও পুলিশ জড়িত প্রধান আসামিসহ সন্ত্রাসীদের ধরতে পারছে না। এতে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটি সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, র‌্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী ইয়াসিনসহ বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

ওই ঘটনা ছাড়াও ১০ জানুয়ারি ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে জামাল উদ্দিন (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার আমিন জুট মিল এলাকার মিদ্যাপাড়ায় অটোরিকশাচালক খোরশেদ আলমকে প্রকাশ্যে রাস্তায় পিটিয়ে খুন করা হয়। মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কা ও লাঠির আঘাতে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া রাস্তায় গাড়ি আটকে ৪ জানুয়ারি নগরের আতুরার ডিপো এলাকায় হাজারী গলির এক ব্যবসায়ীর ৩৫০ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে গত বুধবার নগরের অক্সিজেন শহীদনগর এলাকায় মো. আনিস নামের এক ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে এনে মাথায় আঘাত করে খুন করার পর লাশটি ছয় টুকরা করা হয়। পলিথিন মুড়িয়ে ফেলা হয় খাল ও আশপাশের ভাগাড়ে। লাশের হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে পুলিশ পরিচয় বের করে। এ ঘটনায় পুলিশ এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। আনিস ওই নারীর পূর্বপরিচিত। পরে ঘটনা স্বীকার করে ওই নারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তার দাবি, তার সঙ্গে থাকা ছবি নিয়ে প্রতারণা করছেন আনিস। এ ছাড়া তার মেয়েকেও উত্ত্যক্ত করতেন। তবে আনিসের পরিবারের দাবি, দুই লাখ টাকা নিয়ে না দেওয়ার জন্য তাঁকে মেরে ফেলেন ওই নারী।