নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার ১৪ই আগস্ট ২০২৫, ০৪:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা কোন দেশের—জানার আগ্রহ আছে অনেকেরই। সাধারণত মার্কিন ডলারের বিপরীতে কোনো দেশের মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়। সম্প্রতি বিশ্বের প্রভাবশালী ১০টি মুদ্রার একটি তালিকা করেছে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। সেখানে প্রথম চারটিই মুসলিম দেশের।
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী মুদ্রার তালিকায় সবার ওপরে অবস্থান করছে কুয়েতি দিনার। এরপর যথাক্রমে আছে বাহরাইনি দিনার, ওমানি রিয়াল, জর্ডানি দিনার, ব্রিটিশ পাউন্ড, জিব্রাল্টার পাউন্ড, সুইস ফ্রাঁ, ইউরো ও মার্কিন ডলার।
কুয়েতি দিনার
এক কুয়েতি দিনারে বর্তমানে ৩ দশমিক ২৬ মার্কিন ডলার পাওয়া যায়। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৯৭ টাকা। অন্যভাবে বললে, এক মার্কিন ডলারের মূল্য শূন্য দশমিক ৩১ কুয়েতি দিনার।
সৌদি আরব ও ইরাকের মাঝামাঝি অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি কুয়েত। তেল রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করছে দেশটি।
বাহরাইনি দিনার
শক্তিশালী মুদ্রার দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ বাহরাইন। সৌদি আরবের উপকূলের কাছে অবস্থিত দেশটির মুদ্রার নাম বাহরাইনি দিনার। বর্তমানে এক বাহরাইনি দিনারের মূল্য ২ দশমিক ৬৫ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মার্কিন ডলারের সমান শূন্য দশমিক ৩৮ বাহরাইনি দিনার। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩২২ টাকা।
উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বহুমুখী অর্থনীতির দেশ বাহরাইন। ২০২৪ সালে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) তেল খাতের বাইরের অবদান দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
ওমানি রিয়াল
শক্তিশালী মুদ্রার তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ ওমানের রিয়াল। আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেনের মাঝামাঝি ওমান অবস্থিত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ধনী প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো ওমানও তেল ও গ্যাসের বড় রপ্তানিকারক।
১৯৭০-এর দশকে ওমানি রিয়াল চালু হয়। বর্তমানে এক ওমানি রিয়ালের মূল্য ২ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মার্কিন ডলার সমান শূন্য দশমিক ৩৮ ওমানি রিয়াল। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩১৬ টাকা।
জর্ডানি দিনার
শক্তিশালী মুদ্রার দেশের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে আছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ জর্ডান। দেশটির মুদ্রার নাম জর্ডানি দিনার। ১৯৫০-এর দশকে এ মুদ্রার প্রচলন হয়। বর্তমানে এক দিনারের মূল্য ১ দশমিক ৪১ মার্কিন ডলার। এক মার্কিন ডলারে পাওয়া যায় শূন্য দশমিক ৭১ জর্ডানি দিনার। বাংলাদেশি টাকায় ১৭১ টাকা।
জর্ডান মূলত স্থলবেষ্টিত দেশ। প্রতিবেশীদের তুলনায় তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর কম নির্ভরশীল তারা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ঋণ বৃদ্ধি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ব্রিটিশ পাউন্ড
শক্তির বিচারে যুক্তরাজ্যের মুদ্রা ব্রিটিশ পাউন্ডের অবস্থান পঞ্চম। ১৫ শতাব্দী থেকে এ মুদ্রা প্রচলিত আছে। বর্তমানে এক পাউন্ডের মূল্য ১ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মার্কিন ডলার সমান শূন্য দশমিক ৭৫ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬১ টাকা।
জিব্রাল্টার পাউন্ড
ব্রিটিশ পাউন্ডের পরের অবস্থানে রয়েছে জিব্রাল্টার পাউন্ড। ১৯২০-এর দশকে চালু হওয়া এ মুদ্রার মান ব্রিটিশ পাউন্ডের সঙ্গে বাঁধা। ফলে এটি সব সময় পাউন্ডের দরের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তবে ১ জিব্রাল্টার পাউন্ডের মূল্য ১ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার। স্পেনের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত জিব্রাল্টার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ ভূখণ্ড।
সুইস ফ্রাঁ
ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড ও পার্শ্ববর্তী লিচেনস্টাইনের অফিশিয়াল মুদ্রার নাম সুইস ফ্রাঁ। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মুদ্রার মধ্যে এটির অবস্থান সপ্তম।
সুইজারল্যান্ডের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে সুইস ফ্রাঁ প্রায়ই নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে এক সুইস ফ্রাঁর মূল্য ১ দশমিক ২১ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মার্কিন ডলার সমান শূন্য দশমিক ৮৩ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪৭ টাকা।
কেম্যান ডলার
ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ ভূখণ্ড কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের মুদ্রার নাম কেম্যান ডলার। ১৯৭০-এর দশকে এ মুদ্রা চালু হয়। বর্তমানে এক কেম্যান ডলারের মূল্য ১ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার। আর ১ মার্কিন ডলারের মূল্য শূন্য দশমিক ৮৩ কেম্যান ডলার। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪৫ টাকা।
ইউরো
ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অফিশিয়াল মুদ্রার নাম ইউরো। ইইউভুক্ত ২৭টি সদস্যদেশের মধ্যে ২০টি এই মুদ্রা ব্যবহার করে।
বর্তমানে ১ ইউরো সমান ১ দশমিক ১৩ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মার্কিন ডলার শূন্য দশমিক ৮৯ ইউরোর সমান। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩৭ টাকা।
মার্কিন ডলার
অল্পের জন্য শীর্ষ ১০ মুদ্রার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মার্কিন ডলার। ১৭ শতকে চালু হওয়া এ মুদ্রা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, ইকুয়েডরসহ আরও কয়েকটি ভূখণ্ড ও স্বাধীন রাষ্ট্রে বৈধ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র। আর বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া মুদ্রাও মার্কিন ডলার। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়; বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে সবচেয়ে বেশি মজুত আছে এই ডলারই। পাশাপাশি তেল, স্বর্ণ ও তামাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম নির্ধারণে মার্কিন ডলারই প্রধান মাধ্যম।