নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : রবিবার ১৯শে এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে খাদ্যাভ্যাসের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মন্তব্য করেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করা হবে।
কোচবিহারে এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে গরুর মাংস খাওয়া চলবে না।” তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
অনেকের মতে, ভোটকে সামনে রেখে মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও জোরদার করতেই গরুর মাংস ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ‘নিরামিষাশী’ দলের ভাবমূর্তি থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে দলটির নেতারা বিভিন্ন সময় সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অবশ্য এসব অভিযোগ নাকচ করে দাবি করেন, তৃণমূল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আসামে ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও সাধারণ মাছ-মাংস খাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে গরুকে পবিত্র মনে করা হয়—এই কারণে বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন হলে গরুর মাংস খাওয়া ও গরু পাচার—দুটোই কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মাংস খাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আসবে না। কেবল গোমাংসের বাণিজ্য বন্ধ হবে—এই আশঙ্কাতেই বিরোধী পক্ষ অযথা উদ্বেগ ছড়াচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্যে একদিকে বাঙালির আমিষভোজী সংস্কৃতিকে সরাসরি আঘাত না করে, অন্যদিকে ধর্মীয় অনুভূতিকে সামনে আনার কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য ইস্যুর পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে।
এছাড়া হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গরু পাচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।