নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : সোমবার ১৯শে জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি)। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।
১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তাঁর বাবা মনসুর রহমান ছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের একজন উচ্চপদস্থ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং মা জাহানারা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। শৈশবকাল থেকেই দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বগুণে তিনি আলাদা পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন জিয়াউর রহমান। সামরিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দেন।
১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। এখান থেকেই ১৯৭১ সালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেন তিনি। তাঁর সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা— “আমি মেজর জিয়া বলছি”—স্বাধীনতার সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রাখে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং ‘জেড ফোর্স’ গঠন ও নেতৃত্ব দেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন এবং দেশকে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নেন। তাঁর নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় এবং স্বাধীন ও সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হয়। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে শহীদ হন জিয়াউর রহমান। তাঁর শাহাদাতে গোটা দেশ শোকাহত হয়ে পড়ে। শেরেবাংলানগরে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে শহীদ জিয়াউর রহমানকে স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক। তিনি শহীদ জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় শেরেবাংলানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।