নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : রবিবার ১৮ই জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ক্ষমতায় এলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানের ভুক্তভোগী কয়েকজন পরিবারের সদস্যের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় তারেক রহমান শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিএনপি অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল, যা ১৯৭১ সালের শহীদ ও আহত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার দেখভালের দায়িত্ব পালন করে আসছে। একই ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্যও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না—এটি ছিল অধিকারহারা গণমানুষের গণআন্দোলন। “১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের বছর, আর ২০২৪ ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা কতটা গভীর, তা তিনি ব্যক্তিগতভাবেই জানেন এবং কোনো কিছুর মাধ্যমেই সেই শোক পুরোপুরি মোছা সম্ভব নয়।
তারেক রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দুই ধরনের সহায়তা অত্যাবশ্যক— এক. রাষ্ট্রীয় খরচে আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই. যোগ্যতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই দুটি বিষয়ই বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, আর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা লড়াই করেছেন তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। “স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে, আর তা রক্ষা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গত দেড় দশকে চলমান ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও অপহরণের শিকার হয়েছেন। বহু পরিবার সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন এক বা দুই চোখ হারিয়েছেন। এ ধরনের হত্যাযজ্ঞকে এক কথায় গণহত্যা বলেই অভিহিত করেন তিনি।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে শোক সমাবেশ আর শোকগাথাই আমাদের ভবিষ্যৎ হয়ে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করবে।