নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার ২২শে জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে উৎসবমুখর ও মুক্ত পরিবেশে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারের মধ্য দিয়ে এতদিনের একতরফা নির্বাচনের আড়ষ্টতা কাটিয়ে প্রকাশ্যে ফিরছে ভোটের উৎসব।
নির্বাচনি প্রচারকে সামনে রেখে আজ থেকেই প্রার্থীরা মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়োগপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসাররা পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন বাদে ২৯৮টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন। প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন।
নির্বাচনি প্রচারের প্রথম দিনেই বড় দলগুলোর কর্মসূচিতে চমক থাকছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি ভোটারদের দৃষ্টি কেড়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও আজ থেকে দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেবেন। দলটি ‘আধুনিক বাংলাদেশ ও ইনসাফ কায়েম’-এর স্লোগান নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
তফসিল ঘোষণার পর ভোটের ২১ দিন আগে সব ধরনের প্রচারে বিধিনিষেধ থাকলেও অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তা মানেননি। তবে মূল প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—প্রচারের সময় অবশ্যই আচরণবিধি মেনে চলতে হবে।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মাইকিং করা যাবে। তফসিল ঘোষণার পর নিয়ম ভেঙে আগেভাগে প্রচার চালানোর অভিযোগে ইতোমধ্যে একাধিক প্রার্থীকে শোকজ ও জরিমানা করা হয়েছে।
ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, নির্বাচনি মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি সক্রিয় রয়েছে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে যাতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সুপারিশে গতকাল পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৭৫ জন প্রার্থীকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাতজনের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়াল চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।
পাবনা-৫ আসনে একজনকে ১০ হাজার টাকা, দুজনকে ৫ হাজার টাকা করে এবং একজনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইভাবে খুলনা-২ আসনে দুজনকে এক হাজার টাকা করে এবং রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পটিয়া) আসনে একজনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মুনিরা খান বলেন, এতদিন যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন, নির্বাচন কমিশন চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারত। শুধু শোকজ নোটিস ও জরিমানা শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাটা দুঃখজনক। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মূল প্রচার শুরু হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। অতীতের মতো ঢিলেঢালা মনোভাব দেখালে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
তবে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আমরা কাউকেই ছাড় দিচ্ছি না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের আগ্রহ ছিল কম। একতরফা নির্বাচনের কারণে প্রচার সীমাবদ্ধ ছিল নিজেদের মধ্যেই। তবে এবার বিএনপি, জামায়াতসহ রেকর্ড ৪৯টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে নির্বাচনি মাঠে প্রাণ ফিরেছে।
বিশেষ করে তরুণ প্রার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। যদিও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগসহ সমমনা ১১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বর্জন করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গড়ে প্রতিটি আসনে প্রায় সাতজন প্রার্থী লড়ছেন। এবার কোনো আসনেই একক প্রার্থী নেই।
দলভিত্তিক হিসেবে বিএনপি সবচেয়ে বেশি ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ জন, তৃতীয় সর্বোচ্চ জামায়াতে ইসলামীর ২২৪ জন এবং জাতীয় পার্টির ১৯২ জন প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ১,৭৩২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন।