;

রোববারই হতে পারে ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা!

রোববারই হতে পারে ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা!

ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে দেয়া সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে অনেকটাই চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে তাজা গোলাবর্ষণের মহড়া দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় পানি আরও ঘোলা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহান্তেই দেশ দুটির মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

উজবেকিস্তানের শীর্ষ ডিজিটাল নিউজ প্লাটফর্ম, অপারেটিভ ইনফরমেশন সেন্টার বিদেশি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন প্রশাসন ইতিমধ্যেই সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। উল্লেখ, বর্তমানে উজবেকিস্তানে উল্লেকযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। 

অপারেটিভ ইনফরমেশন সেন্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববারই ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা শুরু হতে পারে। সূত্রমতে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের একজন আঞ্চলিক মিত্রকে সম্ভাব্য এই হামলার বিষয়ে ইতিমধ্যেই অবহিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি ইসরাইলকে জানানো হয়েছে। 

এই অভিযানের মূল লক্ষ্য শুধু ইরানের পারমাণু বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা নয়, বরং দেশটিতে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা। একজন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক স্থাপনা এবং কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্পগুলো রয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তেহরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন রণতরীর দিকে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কোনো ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়ালে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। 

তিনি জানান, বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বিশাল নৌবহর পারস্য উপসাগরে রয়েছে এবং যে কোনো মুহূর্তে অপারেশনের জন্য প্রস্তুত। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই সামরিক শক্তি ভেনেজুয়েলা উপকূলে পাঠানো আগের শক্তির চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিশাল।

যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। ইরানি নেতার উপদেষ্টা আলী শামখানি জানিয়েছেন, যে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া হবে চূড়ান্ত। এই পাল্টা হামলা ‘জায়নবাদী শাসিত’ ইসরাইলের অভ্যন্তরেও আঘাত হানবে। শামখানি উল্লেখ করেন, তারা শত্রুর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এবং তাদের নিষ্ক্রিয় করতে কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে আঘাত করা হবে।