;

রাজধানীতে দুই দিনে ৬ নারীর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীতে দুই দিনে ৬ নারীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পৃথক সময়ে অন্তত ছয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মগবাজার, গুলশান, বাড্ডা, মিরপুর, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতরা হলেন— বড় মগবাজার এলাকার শম্পা আক্তার (২৬), গুলশান কালাচাঁদপুর এলাকার সাদিয়া রহমান মীম (২৭), বাড্ডা থানার আফতাবনগরের সুবর্ণা আক্তার, মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম মিম, ডেমরার পূর্ব বক্সনগরের কোহিনূর এবং যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া আদর্শবাগের আশা আক্তার।

মগবাজার

রোববার সকালে হাতিরঝিল থানার বড় মগবাজার এলাকার একটি বাসা থেকে শম্পা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকাল পৌনে ৭টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, শম্পা তার স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

গুলশান

গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে সাদিয়া রহমান মীমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একটি বিউটি পার্লার ও বারে কাজ করতেন। শুক্রবার রাত থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল। শনিবার রাতে বড় বোন বাসায় এসে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মরদেহ দেখতে পান। মীমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

বাড্ডা

আফতাবনগর এলাকা থেকে সুবর্ণা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি স্বামী আজহারুল ইসলামের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। দাম্পত্য কলহের জেরে শুক্রবার রাতে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

মিরপুর

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম মিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পারিবারিক বিষয়ে অভিমান করে শনিবার সকালে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন তিনি।

যাত্রাবাড়ী

যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া আদর্শবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে আশা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, আত্মহত্যায় প্ররোচনার ঘটনায় তার স্বামী দেলোয়ার হোসেন জড়িত। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডেমরা

ডেমরার পূর্ব বক্সনগর এলাকা থেকে কোহিনূর নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বজনেরা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।