;

তিন দিন ধরে নিখোঁজ শিশুর লাশ মিলল প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে, গ্রেপ্তার ৩

তিন দিন ধরে নিখোঁজ শিশুর লাশ মিলল প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে, গ্রেপ্তার ৩

ছবি সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় প্রতিবেশীর ঘরের সেপটিক ট্যাংক থেকে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটি তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের পশ্চিম চরমোহনা গ্রামের একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত শিশুর নাম কানিজ ফাতেমা। সে পশ্চিম চরমোহনা গ্রামের কাঞ্চন হোসেনের মেয়ে। পুলিশের ধারণা, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে নিখোঁজ হয় কানিজ ফাতেমা। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই শিশুটির মা জান্নাতুল ফেরদৌস বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলায় প্রতিবেশী তোফায়েল আহাম্মদ (৬০), ফিরোজা বেগম (৫০) ও নিশু আক্তারকে (২৫) আসামি করা হয়। এরপর গতকাল আসামিদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁদের ঘরসহ আশপাশে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে সেপটিক ট্যাংকে লাশটি পাওয়া যায়। পরে এ ঘটনায় পুলিশ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে।

 

নিহত শিশুর মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ঘটনার দিন সকালে তাঁর মেয়ে প্রতিবেশী তোফায়েল আহাম্মদের ঘরের ভেতরে গিয়েছিল। এর পর থেকে মেয়ের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই তাঁকেসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন তিনি। জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, ‘তোফায়েল আহম্মদের সঙ্গে জমি নিয়ে আমাদের বিরোধ আছে। সেই বিরোধের জেরেই আমার মেয়েকে তারা হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করেছে।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গ্রেপ্তার তিনজনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে।