নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : মঙ্গলবার ১৩ই জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিলিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হোটেল কর্মচারী মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
রোববার সকালে বাগেরহাটে র্যাবের একাধিক ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বাগেরহাট জেলার মান্ডা বাশখালী এলাকার মৃত সেকেন্দার মল্লিকের ছেলে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন মল্লিক ভিকটিমের বাসায় প্রবেশ করেন। ১টা ৪১ মিনিটে নিহতের বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে তিনি বাসা থেকে বের হন। পরে বড় বোন জিমে চলে গেলে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন একা আবার বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট পর, ২টা ৪৫ মিনিটে বের হয়ে যান।
প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব নিশ্চিত হয় যে ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে যান। এরপর র্যাব-৩ ও র্যাব-৬-এর যৌথ দল বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিহত শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও খাবার দিতে গিয়ে একই ধরনের প্রস্তাব দিলে নিলি তাকে তিরস্কার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।
র্যাব জানায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিলন নাইলনের দড়ি নিয়ে ভিকটিমের বাসায় যান। একপর্যায়ে অনৈতিক প্রস্তাবে আবারও রাজি না হওয়ায় তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটান। পরে বাসা থেকে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান।
অভিযানকালে মিলনের কাছ থেকে ঘটনার সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার মিলন একজন মাদকসেবী এবং এর আগেও মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।