নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : সোমবার ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘাত এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে থাইল্যান্ডে। এই নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন জোট। গতকাল এক ঘোষণায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, আনুতিন চার্নভিরাকুলের দল ভূমিজাই থাই পার্টি পেয়েছে সর্বোচ্চ ১৯৬টি আসন। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছে ১১৬টি আসন। বাকি ১৮০টি আসনে জয় পেয়েছে রক্ষণশীল পিউ থাই পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টে মোট আসন সংখ্যা ৪৯২টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ২৪৬টি আসন। ফলে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকার গঠন ছাড়া বিকল্প নেই।
তবে যেহেতু ভূমিজাই থাই পার্টি সর্বাধিক আসনে বিজয়ী হয়েছে, তাই জোট সরকার গঠিত হলে নিয়ম অনুযায়ী আনুতিন চার্নভিরাকুলই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৫৮ বছর বয়সী আনুতিন চার্নভিরাকুল ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। পায়েতংতার্ন সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কন্যা এবং পিউ থাই পার্টির নেত্রী। তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে ৩৮ বছর বয়সে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তবে শপথ গ্রহণের এক বছরের মধ্যেই তাকে ক্ষমতা হারাতে হয়।
থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। গত দুই বছরে দেশটিতে তিনজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি, আনুতিন চার্নভিরাকুলের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত ডিসেম্বর কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে সংঘাতের ঘটনা ঘটে। কয়েকদিনব্যাপী ওই সংঘাতে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর একাধিক সদস্য হতাহত হন।
এইসব রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন আনুতিন চার্নভিরাকুল, যা থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।