নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বুধবার ২৪শে ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:১২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
শীতে বেশ কয়েকটি বিড়ম্বনার মধ্যে অন্যতম হলো খুশকি। এটি ত্বকের একটি সাধারণ সমস্যা। তবে, খুশকি সাধারণত তেমন ক্ষতিকর নয়। অনেকেই ভাবেন, নিয়মিত অ্যান্টি ড্যানড্রফ শ্যাম্পু ব্যবহার করলেই সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, শ্যাম্পু মেখেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। তাহলে সমস্যা ঠিক কোথায়?
চিকিৎসকদের মতে, খুশকি খুব সাধারণ হলেও একে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি আদতে মাথার ত্বকের একটি রোগজনিত সমস্যা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় পিটিরিয়াসিস ক্যাপিটিস বা সেবোরিক ডার্মাটাইটিস।
জার্নাল অব ইনভেস্টিগেটিভ ডার্মাটোলজি সিম্পোজিয়াম প্রসিডিংসে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রায় অর্ধেকই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে খুশকির সমস্যায় ভোগেন। অনেকের ধারণা, অপরিচ্ছন্নতাই খুশকির প্রধান কারণ।
ইন্ডিয়ান জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত তথ্য বলছে, শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব নয়, খুশকির পেছনে রয়েছে আরও নানা কারণ। এর মধ্যে রয়েছে মাথার ত্বকের অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, মানসিক চাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাস।
মানসিক চাপ বাড়লে শরীরে হরমোনের তারতম্য ঘটে। এর প্রভাব পড়ে মাথার ত্বকের তৈল গ্রন্থিতে। ফলে সেবাম ক্ষরণ বেড়ে যায় এবং খুশকি হওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। বয়ঃসন্ধিকালে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়, কারণ তখন তৈল গ্রন্থিগুলো খুব সক্রিয় থাকে।
শীতকালে আবার ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। তার সঙ্গে যোগ হয় ধুলাবালি ও দূষণ। সব মিলিয়ে খুশকির সমস্যা তখন আরও বাড়াবাড়ি আকার নেয়।
অনেকে মনে করেন, মাথার ত্বক শুষ্ক হলে নিয়মিত তেল মাখলেই সমাধান হবে। কিন্তু চিকিৎসকদের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের মতে, খুশকির ক্ষেত্রে তেল মাখলে উপকারের বদলে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। এতে মাথার ত্বকে প্রদাহ বাড়ে, চুল ঝরার প্রবণতাও বাড়তে পারে। এমনকি ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হয়। তবে হালকা ঘনত্বের বিশেষ সিরাম ব্যবহার করলে কিছু ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায়।
তাহলে উপায় কী? প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে জীবনযাপনে। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত বিশ্রাম এবং নিজের জন্য সময় বের করা দরকার। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। ভিটামিন, জিঙ্ক ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি দীর্ঘদিন অ্যান্টি ড্যানড্রফ শ্যাম্পু ব্যবহার করেও খুশকি না কমে, তাহলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। কারণ খুশকি শুধু সৌন্দর্যজনিত সমস্যা নয়, এটি শরীরের ভেতরের অসামঞ্জস্যেরও একটি সংকেত হতে পারে। ঠিক সময়ে সঠিক যত্ন নিলেই এই বিরক্তিকর সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।