;

গ্যাস সংকটে বিকল্প উপায়ে রান্না, তবে নিরাপত্তা ভুলবেন না

গ্যাস সংকটে বিকল্প উপায়ে রান্না, তবে নিরাপত্তা ভুলবেন না

ছবি সংগৃহীত

গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার, রাইস কুকারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক রান্নার যন্ত্রের ওপর নির্ভর করছে। তবে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে গিয়ে রান্নাঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার জানান, বাসাবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম প্রধান উৎস হলো রান্নাঘর। গ্যাস লিকেজ, অসাবধানতা এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রের অবহেলা থেকে অধিকাংশ আগুনের সূত্রপাত হয়।

গ্যাস সংযোগ ও লিকেজ পরীক্ষার নিয়ম

গ্যাস সিলিন্ডার বা লাইনের সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক কাপ পানিতে সামান্য সাবান বা ডিটারজেন্ট মিশিয়ে ফেনা তৈরি করে স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে পাইপ, রেগুলেটর ও চুলার সংযোগস্থলে লাগাতে হবে। কোথাও বুদবুদ উঠলে তা গ্যাস লিকের লক্ষণ।

এ ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে রেগুলেটর বন্ধ করে দক্ষ মিস্ত্রি ডাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই লাইটার বা আগুন দিয়ে লিক পরীক্ষা করা যাবে না। গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে দ্রুত সংযোগ বন্ধ করে জানালা খুলে দিতে হবে এবং বৈদ্যুতিক সুইচ অন না করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে।

রান্নাঘরে সাধারণ সতর্কতা

চুলার আশপাশ সব সময় পরিষ্কার রাখা জরুরি। তেল, খাবারের উচ্ছিষ্ট বা ময়লা জমে থাকলে আগুন ধরার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চুলার পাশে টিস্যু, পলিথিন, তোয়ালে, কাপড় বা অন্য দাহ্য বস্তু রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এক্সজস্ট ফ্যান বা চিমনি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে তেল জমে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা বাড়ে। গ্যাস সিলিন্ডার শুকনো ও বাতাস চলাচলযোগ্য স্থানে রাখতে হবে এবং রাবার রিং ঠিক আছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। রান্না শেষে অবশ্যই রেগুলেটর বন্ধ করতে হবে।

বৈদ্যুতিক রান্নার যন্ত্র ব্যবহারে করণীয়

গ্যাস সংকটের কারণে ওভেন, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইন্ডাকশন কুকারের ব্যবহার বেড়েছে। এসব যন্ত্র ব্যবহার শেষে প্লাগ খুলে রাখা উচিত। ভেজা হাতে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ করা যাবে না। ছেঁড়া তার বা পুরোনো সকেট থাকলে দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে এবং রান্নার সময় শিশুদের রান্নাঘর থেকে দূরে রাখতে হবে।

সম্ভব হলে রান্নাঘরে ছোট আকারের ফায়ার এক্সটিংগুইশার, বালুর বালতি বা মোটা ভেজা তোয়ালে রাখার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

দুর্ঘটনা ঘটলে করণীয়

আগুন লাগলে প্রথমেই মূল গ্যাস সংযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। এরপর পরিবারের সদস্যদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন নম্বর ১০২ অথবা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রান্নাঘরে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা ও নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সতর্কতা মেনে চললে গ্যাস সংকটের মধ্যেও রান্নাঘর নিরাপদ রাখা সম্ভব এবং পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে।