নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : শনিবার ১৬ই মে ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত বিভিন্ন খাদ্যপণ্য— যেমন চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, আচার, স্যুপ ও লবণাক্ত বিস্কুটে উদ্বেগজনক মাত্রায় লবণ থাকার তথ্য উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কারণে দেশে প্রতিবছর প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (১৩ মে) আয়োজিত এক জনসচেতনতামূলক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দৈনিক গড়ে প্রায় ৯ গ্রাম লবণ গ্রহণ করেন, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত মাত্রার প্রায় দ্বিগুণ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগ ও পাকস্থলির ক্যানসারের মতো বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, বর্তমানে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু রক্তচাপই বাড়ায় না, বরং অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি ও নানা জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট আহমাদ খাইরুল আবরার জানান, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে এবং এর মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষ অকালে মারা যায়।
প্যাকেটজাত খাবারে বাড়ছে ‘লুকায়িত লবণ’
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবারে থাকা ‘লুকায়িত লবণ’ এখন বড় উদ্বেগের কারণ।
তার ভাষ্য, চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, আচার, স্যুপ ও বিস্কুটসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় খাবারে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করা হয়। এমনকি অনেক মিষ্টি স্বাদের খাবারেও উচ্চমাত্রার সোডিয়াম থাকে, যা অধিকাংশ ভোক্তার অজানা। ফলে মানুষ অজান্তেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লবণ গ্রহণ করছে।
ওয়ার্নিং লেবেল ও কঠোর নীতিমালার দাবি
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কের সামনে বাধ্যতামূলক সতর্কতামূলক লেবেল (ফ্রন্ট-অভ-প্যাকেট ওয়ার্নিং লেবেল) যুক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মান পুনর্নির্ধারণ ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইদুল আরেফিন বলেন, দেশে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে কম লবণযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত করতে খাদ্যের মোড়কে সঠিক পুষ্টি তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।