;

এমন লজ্জা এর আগে কখনো পায়নি ভারত

এমন লজ্জা এর আগে কখনো পায়নি ভারত

ছবি সংগৃহীত

ম্যাচের আগে ঘুরেফিরে আলোচনায় ছিল ব্রিজটাউনের ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ফাইনাল। যে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছিল ভারত। যদিও ফাইনাল আর সুপার এইটের ম্যাচের গুরুত্ব এক নয়, তবুও আহমেদাবাদে দুই দলের মুখোমুখি লড়াই ঘিরে উত্তেজনার কমতি ছিল না। প্রশ্ন ছিল—ভারত কি আবারও জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, নাকি প্রতিশোধ নেবে প্রোটিয়ারা?

কিন্তু নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দৃশ্যপট ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। দিনটি একেবারেই নিজেদের করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। শুধু জয়ই নয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে রানের ব্যবধানে ভারতকে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের লজ্জাও উপহার দেয় তারা।

আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও ডিউয়াল্ড ব্রেভিস ২৯ বলে ৪৫, ডেভিড মিলার ৩৫ বলে ৬৩ এবং ট্রিস্টান স্টাবস ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮৭ রানের শক্ত সংগ্রহ গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ৩১ রানে ৩ উইকেট হারায় দলটি। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৭ বল বাকি থাকতে ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। ফলে ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

রানের হিসেবে এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে ভারতের সবচেয়ে বড় হার। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে হেরেছিল ভারত। বিশ্বকাপের বাইরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও ৭৬ রানের বেশি ব্যবধানে ভারত মাত্র একবারই হেরেছে—২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ রানে।

এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচেই আগে ব্যাট করে জয় পেয়েছিল ভারত। তবে প্রথমবার রান তাড়া করতে নেমেই ছন্দ হারায় দলটি। একই সঙ্গে ২০২২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর বহুজাতিক টুর্নামেন্টে টানা ২২ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রারও ইতি ঘটে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব পরাজয়ের কারণ হিসেবে পাওয়ার প্লের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, ১৮০-১৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে পাওয়ার প্লেতে অতিরিক্ত উইকেট হারানোই দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। প্রয়োজনীয় ছোট ছোট জুটি গড়ে তোলা না যাওয়াই শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মূল কারণ।

তবে এটিকে খেলার অংশ বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি। এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও শক্তভাবে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভারত অধিনায়ক।