;

রাস্তায় পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো অটোরিকশাচালককে, দূরে দাঁড়িয়ে দেখলেও এগিয়ে এলেন না কেউ

রাস্তায় পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো অটোরিকশাচালককে, দূরে দাঁড়িয়ে দেখলেও এগিয়ে এলেন না কেউ

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীতে প্রকাশ্যে তিনজনের নির্মম মারধরে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। রাস্তায় ফেলে নিস্তেজ হওয়া পর্যন্ত পেটানো হলেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি।

বুধবার (গতকাল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আমিন জুট মিল এলাকার মিদ্যাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম খোরশেদ আলম। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় খোরশেদকে উদ্ধার করে রাতেই হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় তিন ব্যক্তি খোরশেদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিতে থাকেন তারা। এরপর লাঠি দিয়ে আঘাত করা হলে খোরশেদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আশপাশে লোকজন থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার পুলিশ জানায়, নিহত খোরশেদের মাথা ও মুখমণ্ডলে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মারধরে জড়িতদের মধ্যে মো. হোসেন নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও একজনকে আটক করা হলেও তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।

ওসি আরও বলেন, নিহত খোরশেদ ও হামলাকারীদের মধ্যে পূর্বশত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিরোধের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে কথা-কাটাকাটি থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় খোরশেদকে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগেও বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় এক র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হন এবং আহত হন আরও তিনজন।