নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বুধবার ২১শে জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সরকারি জমি দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১৭ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচজন। সর্বশেষ সোমবার বিশেষ অভিযানে গিয়ে নিহত হন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব। এতে করে আবারও আলোচনায় এসেছে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে থাকা এই ভয়ংকর অপরাধ অঞ্চল।
হাজার কোটি টাকার অবৈধ জমি ও প্লট বাণিজ্যকে ঘিরে জঙ্গল সলিমপুরে চলছে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও খুনোখুনি। পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে হাজারো ঘরবাড়ি। সরকারি জমি দখল করে ‘বাস্তুহারা’ ও ‘ছিন্নমূল সমিতি’র নামে প্লট তৈরি করে সেগুলো কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর দাবি, প্লট বিক্রির পর মাসে মাসে পানি, বিদ্যুৎ ও তথাকথিত নিরাপত্তা সেবার নামে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। কম দামে জমি কিনে সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর এসব সমিতির হর্তাকর্তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, জঙ্গল সলিমপুরে বসবাসরত পরিবারগুলোর অধিকাংশই দেশের সবচেয়ে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তিনি অবৈধভাবে দখল করা জমির স্থায়ী ও মানবিক বন্দোবস্তের দাবি জানান।
অন্যদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরীফ চৌহান প্রশ্ন তুলেছেন—অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনায় কীভাবে বিদ্যুৎ ও পানির মতো সরকারি সেবা পৌঁছাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, মশিউর, ইয়াসিন, সাদেক ও গফুর মেম্বারের নেতৃত্বে অন্তত ছয়টি সশস্ত্র বাহিনী এই পাহাড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা রোকন মেম্বারের নামও।
ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের জটিলতার কারণে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মুখপাত্র মো. রাসেল বলেন, “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১৭ মাসে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ অভিযানে র্যাবের একজন কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি কার্যকর নয়। কারণ এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা স্থানীয় নয়। নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যম ও অন্যান্য বাহিনীর সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।”
জেলা প্রশাসন ২০২২ সালে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে ১১টি ভাগে বিভক্ত করে কেন্দ্রীয় কারাগার-২ ও নভোথিয়েটারসহ একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে। তবে দখলদারদের দাপটে এখনো সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি।