;

নিরাপদ মাতৃত্বে পরিবার, সমাজ ও সরকারের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ

নিরাপদ মাতৃত্বে পরিবার, সমাজ ও সরকারের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ

ছবি সংগৃহীত

‘মা ও শিশুর সুস্থতা একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূলভিত্তি।’ বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস প্রতি বছর ২৮ মে তারিখে পালন করা হয়। যা মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রসবকালীন জটিলতা রোধ এবং নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই দিনটি শুধু চিকিৎসাগত সেবাই নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনেরও কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নিরাপদ মাতৃত্বের গুরুত্ব, বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং স্বাস্থ্য পরামর্শ নিয়ে  কথা বলেছেন ডা. শায়লা হক (মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও হেলথ প্রেজেন্টার)। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিসুল ইসলাম নাঈম-

এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য, গর্ভকালীন সময়ে মায়ের সঠিক যত্ন, মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং কোনো জটিলতা যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা। দেশে মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ, ২০ বছরের নিচে সন্তান নেওয়া। এছাড়া প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ, খিঁচুনি, বিলম্বিত প্রসব, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা, পারিবারিক অবহেলা ও ঠিকমতো প্রসব করতে না পারায় ইনফেকশন হয়। অন্যদিকে কম ওজন নিয়ে জন্ম, প্রি-ম্যাচিউর, জন্মের পরপর শ্বাস না নেওয়া ও নাভিতে ইনফেকশনের কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গর্ভকালীন সময়ে শতকরা ১৫ জন নারী নানা রকম জটিলতায় ভোগেন এবং শতকরা প্রায় ৫১ জন নারী রক্তক্ষরণ ও খিঁচুনির কারণে মৃত্যুবরণ করে।

বর্তমানে বাংলাদেশে মাতৃকালীন সেবায় দেশের বহু সংখ্যক নারী এখনো অধিকার ও সেবা থেকে বঞ্চিত। অসংখ্য পরিবার আছে যাদের কাছে এ ধরনের সেবা পৌঁছায় না, বিশেষ করে গ্রামে। আবার অসংখ্য পরিবারকে দেখা যায়, যারা সামাজিক সমস্যা, বিভ্রান্তি, ও অজ্ঞতার কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে আগ্রহী হয় না। আমরা এখনো বিপরীতমুখী দুটি আলাদা স্রোতের মুখোমুখি হতে দেখি। কিন্তু শহরে আমরা তুলনামুলক এই সেবা প্রায় সবার কাছে সচেতনভাবে পৌঁছাতে পারছি। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বারা এবং চিকিৎসা সেবাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে।

তরুণ প্রজন্ম আর স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আমার বার্তা হচ্ছে, স্বাস্থ্য সেবার গুণগত মান বৃদ্ধিতে চেষ্টা করা। তার সম্পর্কে মা, পরিবার ও সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি, মা ও শিশুমৃত্যু রোধ এবং তাদের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা। আমাদের উচিৎ মাতৃমৃত্যু নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা করা। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং বাল্যবিয়ে রোধ করা। তবেই মাতৃমৃত্যু হার কমানো সম্ভব। আশা করি তরুণ প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর বিভিন্ন উপায়ে এই বিষয়গুলোতে সোচ্চার ও সচেতনতা তৈরি করতে সহায়তা করবে।