নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বৃহস্পতিবার ৬ই নভেম্বর ২০২৫, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানির বিজয়ের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েলি সরকার। দেশটির কয়েকজন মন্ত্রী শহরের ইহুদি সম্প্রদায়কে ইসরায়েলে অভিবাসনের আহ্বানও জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন জোহরান মামদানি। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলের ডায়াসপোরা বিষয়ক মন্ত্রী অমিখাই চিকলি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “বিশ্বের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত শহরটি তার চাবি হামাস সমর্থকদের হাতে তুলে দিয়েছে।” তিনি বলেন, মামদানির জয় নিউইয়র্কের জন্য “এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়” এবং শহরটি, যা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত, এখন নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি।
চিকলি নিউইয়র্কের ইহুদি নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, “সময় এসেছে ইসরায়েলের ভূমিতে নিজেদের নতুন ঠিকানা বিবেচনা করার।”
ইসরায়েলের ন্যাশনাল সিকিউরিটি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির মামদানির নির্বাচনী বিজয়কে আখ্যায়িত করেছেন “সাধারণ বুদ্ধির ওপর ইহুদি বিদ্বেষের জয়” হিসেবে। তিনি নবনির্বাচিত মেয়রকে “হামাস সমর্থক, ইসরায়েলবিদ্বেষী এবং স্বঘোষিত ইহুদি বিদ্বেষী” বলে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া, ইসরায়েলের জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননও মামদানিকে কড়া সমালোচনা করেন। স্থানীয় 103 FM রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মামদানির উস্কানিমূলক মন্তব্য আমাদের থামাতে পারবে না।” তিনি নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
ড্যানন আরও বলেন, মামদানির মেয়র নির্বাচিত হওয়া ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ মেয়র হিসেবে তিনি সরাসরি পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন।
নির্বাচনের আগে জোহরান মামদানি ঘোষণা করেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নির্দেশে যদি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসেন, তবে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেবেন। তবে তিনি প্রচারণার সময় বারবার বলেছেন, “এই শহরে বা দেশে ইহুদি বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। আমরা সবসময় ইহুদি সম্প্রদায়ের পাশে থাকব।”
৯১ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায়, তিনজন প্রার্থীর মধ্যে মামদানি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ রয়েছেন, বিশেষ করে যারা নেতানিয়াহু সরকারের নীতির বিরোধী—বিশেষত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চালানো হামলার সময়।
উল্লেখ্য, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।