নবদেশ ডেস্ক
;
নবদেশ ডেস্ক
আপডেট : বুধবার ২১শে জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
বরিশালে গত দুই বছরে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯টি করে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। এই সময়ে রেজিস্ট্রেশন হওয়া মোট বিয়ের তুলনায় বিচ্ছেদের হার প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীরাই এগিয়ে রয়েছেন।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই বছরে বরিশালে মোট ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে। এর বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী—
২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি রেজিস্ট্রি বিয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৫টি
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহসীন মিয়া বলেন, “২০২৩ ও ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, তালাক বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে নারীরাই এগিয়ে। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় ২০২৫ সালে এই হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি।”
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) বরিশালের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট শাহিদা বেগম বলেন, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, “আইনি সহায়তা নিতে আসা অনেক নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়—স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্তি, পারিবারিক কলহ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস থেকেই সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম এবং দ্রুত বিয়ের প্রবণতাও বিচ্ছেদের হার বাড়াচ্ছে। আবেগের বশে পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা না করেই অনেকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হচ্ছে না। এর সঙ্গে যৌতুক ও পরকীয়ার অভিযোগেও সংসার ভাঙার ঘটনা বাড়ছে।
বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মৃধা বলেন,
“বিবাহবিচ্ছেদ যেন একধরনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। আদালতে প্রতিনিয়ত এ-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বাড়ছে। অধিকাংশ মামলার পেছনে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।”
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ধৈর্যহীনতা, পারস্পরিক সহনশীলতার অভাব এবং ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিস্তার এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।