বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বড় কসবা এলাকায় বাথরুমে ককটেল বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্যসহ তিন জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামিয়া মিশনের পেছনে একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন গৌরনদী মডেল থানার এসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল মো. মিজান এবং ওই বাড়ির মালিক মাসুম হাওলাদার। মাসুমের অবস্থা গুরুতর।

প্রত্যক্ষদর্শী মাসুমের আত্মীয় সেন্টু হাওলাদার জানিয়েছেন, বাথরুমে বাজারের ব্যাগে ককটেলসদৃশ বস্তু দেখতে পান বাড়ির মালিক মাসুম। পরে বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে অবহিত করা হয়। সেখান থেকে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ গিয়ে মাসুমকে বাজারের ব্যাগটি বের করতে বলে। তিনি ব্যাগটি বের করার সময় ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন তিনি। এ ছাড়া একজন এসআই পায়ে আঘাত পান এবং অপর এক পুলিশ সদস্যের বিকট শব্দে কানে সমস্যা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্সে মাসুমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ সদস্যদের বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ওই বাড়িতে মাসুম একাই বসবাস করেন। বাড়িতে একসঙ্গে তিনটি বাথরুম রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ায় খোলা ছিল। যেটি ব্যবহার করা হতো সেটি তালাবদ্ধ থাকে। কিন্তু মাসুম সকালে ওই বাথরুমটি খোলা দেখতে পান। এরপর সেখানে গিয়ে একটি বাজারের ব্যাগ দেখে তা খুললে সেখানে লাল টেপ পেঁচানো বোমাসদৃশ বস্তু দেখে ট্রিপল নাইনে ফোন করেন। এরপর এসআই কামালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ব্যাগটি খোলার সঙ্গে সঙ্গে তা বিস্ফোরিত হলে মাসুম ও কামাল আহত হন। এ ছাড়া শব্দে এক কনস্টেবলের কান স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি কানে শুনতে পারছেন না। আহতদের বরিশাল মেডিকেল এবং পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সেখানে একাধিক ককটেল ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংখ্যাটা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। কে বা কারা এ ককটেল রেখেছিল, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল- এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।