সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতের ডাকে সারাদেশে দ্বিতীয় দফা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ চলছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরিবহনে আগুন ও বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চলছে আতঙ্ক। তাই নগরের নিরাপত্তা বাড়াতে ২০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

যানবাহনে আগুন দেওয়া রুখতে আগে থেকেই নানান পদক্ষেপ নিলেও এখনো পর্যন্ত থামেনি দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুন। রোববার (৫ নভেম্বর) রাতে শুধু ঢাকাতেই অন্তত ৫টি পরিবহনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে লক্ষ্যে নতুনভাবে নিরাপত্তার ছক তৈরি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকার নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে ২০ হাজার পুলিশ সদস্য। দায়িত্ব পালন করছেন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারাও। একই সঙ্গে মাঠে আছে আছে র‌্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, অবরোধ কেন্দ্র করে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তায় এবার নেওয়া হয়েছে নতুন পরিকল্পনা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে দিন ও রাতের রাজধানীকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। রাজধানীতে দিনে প্রায় ১১ হাজার পুলিশ সদস্য এবং রাতে প্রায় ৯ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

সাধারণত নাশকতা ও বাসে আগুন দেওয়ার বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে রাতে। বিষয়টি মাথায় রেখে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি রাজধানীতে যে কোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা যে কোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ যেন পেতে পারেন, এ লক্ষ্যে এবারই প্রথম রাতে উপপুলিশ কমিশনাররা (ডিসি) দায়িত্ব পালন করছেন।

ডিএমপির আটটি ক্রাইম ডিভিশনে একজন করে উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এ দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে নিয়মিত দায়িত্ব পালনে প্রতিদিন একজন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া চোরাগোপ্তা হামলা ও যানবাহন ভাঙচুর করে কেউ যেন পালিয়ে যেতে না পারে- সে জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, অবরোধ কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে ২৭ প্লাটুন বিজিবি। একই সঙ্গে আরও ১০ প্লাটুন বিজিবি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া অবরোধে যে কোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে সারাদেশে ৬৫ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রেল, সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ নির্বিঘ্ন রাখতে ‘অপারেশন সুরক্ষিত যাতায়াত’ শুরু করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।