বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী তিন দিনের ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জোট গণতন্ত্র মঞ্চ। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত বিএনপি ও সমমনাদের সঙ্গে তিন দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে এই জোট। রোববার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে পুরানা পল্টন মোড় সংলগ্ন নাগরিক ঐক্য কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলগুলোর শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ-সমাবেশে চালানো হামলাকে ‘পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে উল্লেখ করেন মঞ্চের নেতারা। দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মী, পুলিশ ও সমাবেশে আগত বিরোধীদলের নেতাকর্মীর ওপর হামলার নিন্দা জানান নেতারা। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সরকার শান্তি সমাবেশের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। বিরোধীদলের পূর্বঘোষিত সমাবেশের দিনই কেন আওয়ামী লীগকে সমাবেশে করতে হবে- এমন প্রশ্ন করেন তারা। এ সময় সরকারের সব ধরনের ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করেই সরকার পতনের যে যুগপৎ আন্দোলন চলমান রয়েছে সেটি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, সমাবেশকে ঘিরে সাধারণ মানুষের সমাগমের বিপরীতে আমরা একটি সশস্ত্র আয়োজন দেখেছি। একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা এই তাণ্ডব চালিয়েছে। আমরা তাদের এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে বিএনপিসহ সমমনা বিরোধীদলের আন্দোলনকে নস্যাৎ করার যে পরিকল্পনা করে রেখেছিল, সেটি তারা ২৮ অক্টোবর বাস্তবায়ন করেছেন। তবে আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বিএনপিসহ ৩৭টি দলের শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ-সমাবেশে ক্ষমতাসীন দলের তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এই হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তার শ্রেণি চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা আজ শান্তিপূর্ণ হরতাল করেছি। একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবিতে আমরা যে আন্দোলন করছি সেই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের ব্যবস্থা সংবিধানে না থাকার কারণে ১৯৭৩ সালের পর থেকে প্রত্যেকবার ক্ষমতা বদলের সময় রক্তাক্ত হতে হয়। বিচারের নামে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা থাকার পরও সেটির ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন না করে পুরো ব্যবস্থাটিকে বাতিল করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম কবীর হাসান প্রমুখ।