ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সংঘাত অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন ঝুঁকির কথা বেশ কয়েক দিন ধরেই বলে আসছে ইরান। তবে এই সংঘাত নিয়ে গতকাল সোমবার যে মন্তব্য ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছেন তা এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠোর সতর্কবার্তা। খবর বিবিসির।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ বন্ধ না করলে আগামী কয়েক ঘণ্টায় প্রতিরোধ জোট আগাম ব্যবস্থা নেবে।

প্রতিরোধ জোট বলতে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে বুঝিয়ে থাকে ইরান। এদের মধ্যে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও রয়েছে। এমন সতর্কবার্তা দেওয়ার আগে গত শনিবার হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিরোধ জোটের নেতারা ইসরায়েলকে গাজায় যা খুশি তা করতে দেবে না। গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকেই হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে গুলি বিনিময় হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তও যুদ্ধের আরেকটি ফ্রন্টে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া সিরিয়ায় ও ইরাকেও ইরানের মদদে সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। আবার সিরিয়ার সঙ্গেও ইসরায়েলের সীমান্ত আছে।

ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে না জড়াতে ইরানকে সতর্ক করে রেখেছে পশ্চিমারা। এখন পর্যন্ত এই সংঘাত গাজায় সীমাবদ্ধ আছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলে গাজায় স্থল হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। এমনকি গাজায় ইসরায়েলের এমন হামলার জবাব দিতে পারে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।