বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। সোমবার (৩১ জুলাই) টানা ২১ দিনের মতো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষকরা। প্রতিদিনের মতো আজ সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়।

এদিকে, ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সোমবার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন শিক্ষকরা। আজকের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ না পেলে মঙ্গলবার (১ আগস্ট) থেকে কাফনের কাপড় পড়ে আমরণ অনশনে যাবেন তারা।

শিক্ষক নেতারা বলছেন, তাদের দাবির প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন রয়েছে। এ জন্যই তিনি জাতীয়করণের লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এখন তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শর্তহীন পাঁচ মিনিটের সাক্ষাৎ চান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকদের ব্যাপক আনাগোনা চোখে পড়ে। বেলা গড়াতেই পল্টন মোড় থেকে কদম ফোয়ারা পর্যন্ত রাস্তার একপাশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন জেলার ব্যানারে দলে দলে স্লোগান দিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন শিক্ষকরা। অন্যদিনের তুলনায় আজ শিক্ষিকাদের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা শিক্ষক বদরুল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজ যদি আমাদের সাক্ষাতের জন্য না ডাকেন, আগামীকাল থেকে আমরা কাফনের কাপড় পরে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেবো। হয় দাবি আদায় করে ফিরবো, না হয় কাফনের কাপড়েই আমাদের লাশ ফিরবে।’

বগুড়ার শেরপুর থেকে আসা আলপনা বানু বলেন, আমাদের সঙ্গে যে বৈষম্য করা হচ্ছে, তা নিরসনের দাবি জানাচ্ছি। এই যে টানা ২০ দিন আমরা এখানে বসে আছি, দেশে কি কোনো সরকার নেই? শিক্ষকদের এই কষ্ট কেউ কি দেখছে না, কারও কি চোখে পড়ছে না? সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনে আমরা কীভাবে চলবো? আমরা চাই, জাতীয়করণের মাধ্যমে দ্রুত আমাদের এ বেতন বৈষম্য দূর করা হোক।

বাংলাদেশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান মিয়া বলেন, ‘আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে আজকেই আমরা কোনো সুখবর পাবো। তারপরও যদি প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের না ডাকেন, কাল থেকে শিক্ষকরা