বর্তমানে কমবেশি সব শিশুদের হাতের নাগালেই স্মার্টফোন। দিনভর কার্টুন, গেমসহ নানা ধরনের বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড দেখতে মোবাইলে চোখ রাখেছে তারা। অভিভাবকরাও এ বিষয়ে সচেতন নন।

শিশুরা যেহেতু ফোনে কার্টুন দেখা ও গেম খেলার সময় চুপচাপ ও শান্ত থাকে তাই অভিভাবকরাও এ নিয়ে তেমন মাথা ঘামান না। আর এভাবেই ফোনের প্রতি আসক্তি বাড়ছে শিশুদের মধ্যে। যা চোখের গুরুতর ব্যাধি মায়োপিয়ার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। শুধু শিশুদের মধ্যেই নয় বড়দের মধ্যেও এই রোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের মধ্যে বাড়ছে স্ক্রিনটাইম। যা তাদের চোখের জন্য ক্ষতিকর। মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবসহ যেকোনো স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের যে ক্ষতি হয়, তাকে চিকিৎসকেরা বলেন মায়োপিয়া।

এই সমস্যায় আক্রান্তরা নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা সবকিছু ঝাপসা দেখেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০১০ সালে মায়োপিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২০০ কোটি। তবে ২০৩০ সাল নাগাদ সেই সংখ্যা ৩৩০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন তারা।
মায়োপিয়ার লক্ষণ কী কী?

>> দূরের জিনিস একেবারে ঝাপসা দেখা
>> দূরের কোনো জিনিস স্পষ্ট দেখার জন্য চোখের পাতাগুলোকে কাছাকাছি নিয়ে আসা
>> মাথাব্যথা
>> চোখে যন্ত্রণা ইত্যাদি।

চিকিৎসকদের মতে, বড়দের ক্ষেত্রে কাজের সূত্রে ৮ ঘণ্টা ও বিনোদনের জন্য ২ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম না রাখাই ভালো। ২-৫ বছরের শিশুদের অভিভাবকেরা অনেক সময় তাদের শান্ত রাখতে টিভি কিংবা মোবাইলে কার্টুন চালিয়ে দেন, সেক্ষেত্রে তাদের স্ক্রিন টাইম যেন এক ঘণ্টার বেশি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

রাতে ঘুমোনোর এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি কিংবা ট্যাবের দিকে না তাকানোই ভালো। মোবাইলের স্ক্রিনের ব্লুলাইট চোখের সবচেয়ে ক্ষতির কারণ। যারা একটানা কম্পিউটার ব্যবহার করেন কর্মস্থানে, তারা কাজের ফাঁকে ফাঁকে চোখকে বিশ্রাম দিন ও কয়েকটি ব্যায়াম করুন। যেমন-

>> ১০-১৫ মিনিট দু’হাতের তালু একটির সঙ্গে অপরটি ঘষে নিন। এতে হাতের তালুতে যে তাপ উৎপন্ন হবে, চোখ বন্ধ করে হাত দু’টি চোখের উপরে রাখুন। দিনে ৩-৪ বার এটি করতে পারেন। চোখ ভালো থাকবে।

>> টানা ২০ মিনিট কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পর ২০ ফিট দূরে থাকা কোনো জিনিসের দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের উপর বাড়তি চাপ পড়বে না।

>> প্রতি ৩-৪ সেকেন্ড পর পর চোখের পাতা ফেলুন। বিশেষ করে এক ভাবে কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাঝেমাঝে চোখের এই ব্যায়ামটি করে নেওয়া ভালো।

>> গোল করে চোখের মণি ঘোরানোর অভ্যাস করুন। এটিও চোখ ভালো রাখার জন্য বেশ কার্যকর একটি ব্যায়াম। দিনে দু’বার করে ব্যায়ামটি করুন। এতে চোখের পেশি ভালো থাকবে। দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি হবে না।