ভাজাপোড়া ও বেশি মসলাযুক্ত খাবার খেলে পেটে ব্যথা বা বদহজমের সমস্যা অনেকেরই। গ্যাস্ট্রিকের কারণে এমনটি ঘটে বলে বেশিরভাগ মানুষই অ্যান্টাসিডজাতীয় ওষুধে ভরসা রাখেন। তবে দীর্ঘদিনের এ সমস্যা কিন্তু অগ্ন্যাশয় ক্যানসারেরও লক্ষণ হতে পারে। এ বিষয়ে হয়তো অনেকেরই তেমন ধারণা নেই!

অন্যান্য ক্যানসারের তুলনায় অগ্ন্যাশয় ক্যানসারে মৃত্যুর হার অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকদের মতে, অগ্ন্যাশয়ে ক্যানসার হলে তা সহজে শনাক্ত করা যায় না। সাধারণত হালকা মানের জন্ডিস এই ক্যানসারের প্রধান লক্ষণ।
তবে জন্ডিস হলে কেউই ক্যানসারের পরীক্ষা করান না। ফলে সহজে ধরা পড়ে না অগ্ন্যাশয় ক্যানসার। আর যখন ধরা পড়ে, তখন অনেকটাই ছড়িয়ে যায় ক্যানসার। এই ক্যানসার ছড়ায় মূলত ফুসফুস আর যকৃতে।

পাকস্থলীর পেছনের অগ্ন্যাশয় গ্রন্থির কোষসমূহ আনিয়ন্ত্রিত হারে বেড়ে গিয়ে যখন পিণ্ড সৃষ্টি করে তখনই মূলত অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার হয়। আর এই ক্যানসার কোষগুলো শরীরের অন্য অংশে ছড়াতে শুরু করে।

ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, স্থূলতা, ডায়াবেটিসের সমস্যা ও ধূমপানের মতো অভ্যাস ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের লক্ষণ কী কী?
১. ক্ষুধা কমে যাওয়া
২. হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
৩. পেটে ব্যথা
৪. পেটে অস্বস্তি (নাভির উপরে)
৫. অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া
৬. গ্যাস্ট্রিক বা বদহজম
৭. বমি বমি ভাব ও বমি
৮. বমির সঙ্গে রক্ত
৯. তরল জমে পেটে ফুলে যাওয়া
১০. মলের সঙ্গে রক্ত
১১. লাল রক্তকণিকা কমে যাওয়ায় ক্লান্ত বা দুর্বল বোধ করা
১২. জেন্ডিস বেড়ে ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া (যখন ক্যানসার লিভারে ছড়িয়ে পড়ে)
এই উপসর্গগুলোর বেশিরভাগই পাকস্থলীর ক্যানসার ছাড়াও অন্য কারণে যেমন- ভাইরাল সংক্রমণ বা আলসারের কারণেও দেখা দিতে পারে।

এই লক্ষণলো অন্যান্য ক্যানসারের কারণেও হতে পারে। তবে যারাই এসব লক্ষণে ভুগছেন তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: ক্যানসার.অর্গ