গরমে অতিষ্ঠ এখন জনজীবন। সূর্যের চোখরাঙানিতে সব যেন জ্বলে-পুড়ে শেষ! এমন দিনে শরীরের দিকে খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। না হলে বড়সড় শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় দেহ থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়, এমনকি ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্যও দেখা দেয়। তবে এই জটিল পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়ার অস্ত্র আমাদের হাতের কাছেই আছে, আর তা হলো ডাবের পানি।

এই তীব্র গরমে যারা নিয়মিত রোদে বের হচ্ছেন, তাদের সমস্যা হচ্ছে বেশি। এক্ষেত্রে হিট এক্সহউশন, হিট স্ট্রোক, হিট ক্র্যাম্পের মতো সমস্যার ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।

এই গরমে শরীরকে হাইড্রেট রাখতে ও সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে ডাবের পানি। এতে থাকা পানি শরীরের ঘাটতি দূর করে।

ঠিক তেমনই এই পানীয় ইলেকট্রোলাইটসেরও ভাণ্ডার। তাই গরমে শরীর সুস্থ রাখতে চাইলে ডাবের পানির কোনো বিকল্প নেই বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে ভারতের আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডা. দিক্ষা ভাবসার সাভালিয়া তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মাধ্যমে জানান, গরমে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা করে ডাবের পানি ও শাঁস।

হাইপার-অ্যাসিডিটি, জ্বালাপোড়া, প্রস্রাব ধরে রাখা, শরীরে জ্বালাপোড়া, অত্যধিক তৃষ্ণা ও ক্লান্তি দূর করতে দীর্ঘদিন ধরে আয়ুর্বেদে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ডাবের পানি।

এছাড়া ডাবের পানি ওজন কমাতেও সাহায্য করে। আবার এটি হজম হয় ধীরে ধীরে অর্থাৎ ডাবের পানি পান করার পর দীর্ঘসময় আপনার পেট ভরা থাকবে।

এছাড়া নারকেলের শাঁসও হজম হয় ধীরে ধীরে। এটি প্রকৃতিতে অ্যাফ্রোডিসিয়াক। শরীরে শীতল প্রভাব ফেলে। এমনকি মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে ও মূত্রথলি পরিষ্কার করে।

এছাড়া ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে, শরীরে শক্তি ও পুষ্টি জোগায়। প্রসবোত্তর নারীদের জন্য খুবই উপকারী ডাবের পানি ও শাঁস।

ডাবের পানি পান করার সেরা সময় কখন?

গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যে কোনো সময়ই আপনি ডাবের পানি পান করতে পারেন। তবে সন্ধ্যা বা রাতে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

কারণ নারকেল প্রকৃতিতে শীতল। যেহেতু সন্ধ্যার পরে এমনিতেই আবহাওয়া কিছু ঠান্ডা হতে শুরু করে তাই ডাবের পানি ওই সময় এড়িয়ে চলা ভালো।

না হলে আপনার ঠান্ডা লাগতে পারে। বসন্ত ও গ্রীষ্মকাল ডাবের পানি পান করা উপযুক্ত সময়। এই গরমে নিয়মিত ডাবের পানি পান করার চেষ্টা করুন।