জামরুল অনেক উপকারী ফল হলেও গ্রীষ্মকালীন আম-কাঁঠাল-লিচুর তুলনায় এটি অনেকটা অবহেলিত। রসালো হলেও এ ফল তেমন সুস্বাদু না, আর এ কারণেই হয়তো এই ফল অনেকেই খান না।

তবে জামরুল দেখতে যতটা আকর্ষণীয় তেমনই এতে থাকা পুষ্টিগুণ অন্যান্য ফলকেও হার মানায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক জামরুল খেলে শরীরে যেসব উপকার মেলে-

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে

জামরুলে আছে জামবোসিন। যা রক্তে স্টার্চ থেকে শর্করা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এ কারণে চিকিৎসকরাও ডায়াবেটিস রোগীদের জামরুল খাওয়ার পরামর্শ দেন।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে

জামরুলে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকায় খাবার হজম করতে সুবিধা হয়। তাতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে। এমনকি ওজন কমাতেও সাহায্য করে রসালো এ ফল।

ক্যানসার নিরাময়েও উপযোগী

জানলে আরও অবাক হবেন, ছোট্ট এ ফল ক্যানসার নিরাময়েও উপযোগী। এতে ভিটামিন এ ও সি ছাড়াও আছে প্রচুর পরিমাণ সক্রিয় যৌগ। যা প্রস্টেট ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

পেটের সমস্যা সারায়

প্রতিদিন জামরুল খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আবার পেটের সমস্যায়ও দারুণ কাজ দেয় জামরুল। জামরুলে থাকা ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটায়।

হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়

জামরুল হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। প্রতি ১০০ গ্রাম জামরুলে প্রায় ২৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এ ক্যালসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়া কমায়

গরমের এ সময় পানিশূন্যতাসহ পেট ফাঁপার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। তারা চাইলে খুব সহজেই এ সমস্যার সমাধান করতে পারেন জামরুল খেয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম জামরুলে ৯৩ গ্রাম পানি থাকে।

যা শরীরে আর্দ্রতা বজায় রাখে ও পানিশূন্যতা রোধ করে। এছাড়া জামরুলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার আছে, যা পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে বিশেষভাবে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি ফল শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। তাই গরমে প্রাণভরে খেতে পারেন জামরুল। এমনকি ডায়াবেটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে এ ফল খেতে পারেন।