শীতকালে অনেকেরই সাইনাসের সমস্যা বেড়ে যায়। দূষণ, মৌসুম বদল, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার মতো কারণে এই সমস্যা হতে পারে।

সাইনাস দুই প্রকারের- তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী। দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসের জন্য অ্যান্টি-বায়োটিকের প্রয়োজন হয়। তবে তীব্র সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে ঘরোয়া কিছু উপায় মানলে মুহূর্তেই এ ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কী ভাবে এই সমস্যা হয়?

সাইনাস মাথার এমন একটি অংশ, যার কাজ নাকের ভিতর দিয়ে বাতাস চলাচলে সাহায্য করা। কোনও কারণে এই সাইনসের ভিতরে সংক্রমণ হলে বাতাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তখন তীব্র মাথাব্যথা হয়। শ্বাসকষ্টও হতে পারে কোনও কোনও ক্ষেত্রে।

সাইনাসের সমস্যা বাড়াবাড়ি জায়গায় পৌঁছে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কিন্তু তার আগে কিছু ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যা কমানো যেতে পারে।

সেই ঘরোয়া উপায়গুলি কী কী জেনে নিন-

১. হাল্কা গরম পানি বা ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি হাতের তালুতে নিয়ে নাকের এক এক দিকের ফুটো দিয়ে এক এক বারে টানতে পারেন। প্রাথমিক ভাবে নাকের ভিতরে অস্বস্তি হতে পারে, হাল্কা জ্বালাও করতে পারে। কিন্তু এটি নাকের ভিতরে জমা ময়লা পরিষ্কার করে দেয়। সাইনাসের ভিতরে সংক্রমণ হলে, সেটি কমাতে সাহায্য করে। প্রতি দিন দু’বার করে টানা তিন দিন নাক দিয়ে এ ভাবে পানি টানলে কমে যেতে পারে সাইনাসের সমস্যা।

৩. শুনতে অবাক লাগলেও, সাইনাসের সমস্যার সহজ সমাধান অতিরিক্ত পরিমাণে পানি খাওয়া। বেশি করে পানি খেলে সাইনাসের মধ্যে জমা ময়লা শরীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়। তাতে নাক পরিষ্কার হয়। ব্যথা কমে। একটু বেশি করে তরল খাবার খেলেও এই সমস্যা কমে।

৪. এই সমস্যা কমাতে একটি বিশেষ পানীয় বানিয়ে নিতে পারে। তার জন্য লাগবে এক চামচ অ্যাপল সিডার ভিনিগার, অল্প আদা কুচি, লেবু, অল্প গোলমরিচ, হাফ চামচ হলুদ, তিন-চার কোয়া রসুন। এগুলো একসঙ্গে নিয়ে এক গ্লাস পানি ফুটিয়ে নিন। সেই মিশ্রণটি একটু ঠান্ডা করে চায়ের মতো ছোট ছোট চুমুক দিয়ে খান। তাতেও সাইনাসের ব্যথা কমবে। এতে মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন। তাতে আরও ভাল ভাবে কাজ করতে পারে পানীয়টি।

৫. সর্দি-কাশির সমস্যা কমাতে অনেকেই ভাপ নেন। গরম পানি পাত্রে রেখে, তোয়ালে দিয়ে মাথা চাপা দিয়ে সেই পাত্র থেকে ভাপ নেন। এই গরম পানিতে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাসের এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। তাতেও সাইনাসের ব্যথা কমবে।